২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা সৌদির

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক সৌদি আরব ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান। শনিবার দেশটির রাজধানী রিয়াদে গ্রিন ইনিশিয়েটিভ ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন গাছ লাগানো ও ৮ মিলিয়ন অনুর্বর জমিকে চাষযোগ্য করে তোলার ঘোষণারও দিয়েছেন। সৌদির প্রিন্স জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ২৭৮ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমাবে সৌদি আরব। এভাবে ধীরে ধীরে কার্বন নিঃসরণ কমানোর মধ্যদিয়ে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যাবে দেশটি। তবে এ কাজে অংশ নিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সৌদি পানি, পরিবেশ ও কৃষি মন্ত্রী আব্দুল রহমান আল- ফাদলি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এটি অসম্ভব। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চূড়ান্ত বাজেট প্রণয়ন ও পুরো প্রকল্পের তহবিলের বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

রিয়াদের সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ ফোরামের সাইডলাইনে তিনি বলেন, সব বেসরকারি খাত, বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক, কৃষি সমিতি, পরিবেশ সমিতি, কোম্পানি, সরকারি কোম্পানি এবং সরকারও গাছ লাগানোর কাজে অংশগ্রহণ করবে।

সৌদি মন্ত্রী জানান, এক হাজার কোটি গাছ রোপণ সৌদির একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। দেশের পতিত ভূমির ৫০ শতাংশকে সবুজে পরিণত করা হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমবে। এসব ভূমি বন্যপ্রাণী সুরক্ষার জন্য মনোনীত করা হবে। বৈশ্বিক বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা এক শতাংশ রোপন করবে সৌদি।

আব্দুল রহমান আল-ফাদলি বলেন, স্বাভাবিকভাবে বলতে গেলে এক হাজার কোটি গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে দেশের পরিবেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি বিশ্বাস করি যে আমরা পুনর্নবীকরণযোগ্য পানি, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে এই উদ্যোগ কার্যকর করতে সক্ষম হব।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘোষণা অনুযায়ী এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ এবং অবদান থাকবে।

এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্থানীয় ও অধিক সহনশীল গাছ রোপণ করবে সৌদি। যাতে পানি কম খরচ হয় এবং দেশটির আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এসব গাছ বেড়ে উঠতে পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.