হোয়াইট হাউসে ৩ দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাইডেনের বৈঠক ২৪ সেপ্টেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথম বারের মতো সশরীরে উপস্থিতিতে ‘কোয়াড’ বা চার দেশীয় নেতাদের সম্মেলনের আয়োজন করছেন। হোয়াইট হাউসে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীরা অংশ নেবেন। চীনের ক্রমবর্ধমান দৃঢ় মনোভাবকে রুখে দেওয়ার জন্য কোয়াড নেতারা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি এক বিবৃতিতে জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে কোয়াডের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার যুক্তরাষ্ট্র সফর হতে যাচ্ছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময়টায়। বাইডেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২১ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন।

এর আগে গত মার্চে কোয়াডের চার দেশীয় নেতাদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তাঁরা কোভিড-১৯ টিকা এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং বেইজিংয়ের চ্যালেঞ্জের মুখে মুক্ত ও খোলা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

জেন সাকি বলেন, ‘চার দেশীয় নেতাদের এই সম্মেলনের আয়োজন প্রমাণ করে যে, বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে নতুন বহুপক্ষীয় রূপরেখা ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্ত থাকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

বাইডেনের ইন্দো-প্রশান্ত বিষয়ক সমন্বয়কারী কার্ট ক্যাম্পবেল গত জুলাই মাসে বলেছিলেন, দীর্ঘ পরিকল্পিত সশরীরে উপস্থিতির কোয়াড বৈঠকে টিকা কূটনীতি ও অবকাঠামো বিষয়ে ‘চূড়ান্ত’ কয়েকটি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে বড় অবকাঠামোগত ব্যয়ের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছেন। মার্চ মাসে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, চীনের ব্যাপক ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’—যেখানে মধ্য-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত নানা প্রকল্প জড়িত রয়েছে—উদ্যোগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলির একটি অবকাঠামো পরিকল্পনা থাকা উচিত।

জেন সাকি বলেন, চার দেশীয় নেতারা কোভিড-১৯ মোকাবিলা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, নতুন প্রযুক্তি এবং সাইবার স্পেস নিয়ে অন্যান্যদের সঙ্গে কাজ করা এবং একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তুলতে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বাস্তবিক অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে অবকাঠামোর বিষয়টি থাকবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.