হাসিনা- জনসন বৈঠকে আসবে ‘অপপ্রচারকারীদের’ ফিরিয়ে আনার ইস্যু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মধ্যে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, কোভিড সহযোগিতা, বাণিজ্য নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে যারা বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা করছে- তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনার সম্ভাবনা আছে।

জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা ৩১ অক্টোবর গ্লাসগো যাচ্ছেন। সেখানে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার জোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বড় একটি আলোচনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সংক্রান্ত যেসব বিষয়ে লন্ডন বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে- সেসব জায়গায় বাংলাদেশে কীভাবে কাজ করতে পারে সেটি নিয়ে কথা হবে।’

কোভিড বিষয়ে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছে এবং বাংলাদেশকে ‘রেড লিস্ট’ থেকেও সরিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের দেওয়া টিকা সার্টিফিকেটও গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। এসব বিষয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এসব বিষয়সহ কোভিক সহযোগিতা বাড়ানো যায় কিনা সেটা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে- তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে চতুর্থ স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’ চুক্তি সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকারের শক্ত অবস্থানের কারণে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবারো আলোচনার সম্ভাবনা আছে।

মিউচুয়াল লিগ্যাল এসিস্ট্যান্স চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, যুক্তরাজ্যে কিছু লোক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাদের বিষয়ে আমরা যুক্তরাজ্য সরকারকে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, বিশেষ করে যারা সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে- তাদের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান এবং এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায় সেটি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা আছে।

ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। ফলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ব্রেক্সিটের পরে স্বাভাবিকভাবেই নানা দিক থেকে আমাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধার বদলে যুক্তরাজ্য কী দেবে সেটিও আমাদের আগ্রহের একটি জায়গা।

অভিবাসনের ক্ষেত্রে তারা এখন পয়েন্ট সিস্টেম করছে এবং সেখানে বাংলাদেশিরা যাতে বেশি সুযোগ পায়- তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সেটিও আমাদের পক্ষ থেকে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.