‘হাজার টনের’ ফেরি উদ্ধারে ৬০ টনের হামজা

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক ও মোটরসাইকেল নিয়ে বুধবার ডুবে যাওয়া রো রো ফেরি আমানত শাহ উদ্ধারে কাজ করছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।

তবে ফেরিটি শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ ৪০০ টনের ফেরিটির ভেতরে পানি ঢুকে যাওয়ায় তা এখন হাজার টনের। অন্যদিকে হামজার উদ্ধার সক্ষমতা মাত্র ৬০ টন।

যদিও এরইমধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ডুবে যাওয়া দুটি ট্রাক টেনে তুলেছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম।

তিনি বলেন, ‘ফেরিটির ভেতরে পানি ঢুকে এটির ওজন হাজার টনের বেশি দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা যায়। কিন্তু হামজার সক্ষমতা মাত্র ৬০ টন। হামজাকে দিয়ে কীভাবে ফেরিটিকে উদ্ধার করা যাবে সে বিষয়ে কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।’

এদিকে, বিআইডব্লিউটিসির জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছে। সকালের মধ্যে জাহাজটি পাটুরিয়া পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে ।  জাহাজ প্রত্যয়ের সক্ষমতা ২৫০ টন। সেটি পৌঁছলে উদ্ধারকাজে গতি আসবে।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে বুধবার সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় রো রো ফেরি শাহ আমানত। পদ্মা পার হয়ে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পরপরই সেটি একপাশে কাত হয়ে নদীতে ডুবে যায়।

পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা বলেছেন ওই ফেরিতে ১৭টি পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়াও কয়েকটি মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট কার ছিল। ঘটনার পর, ঘাটের ট্রলার চালক ও বিআইডব্লিউটিসির ভাসমান কারখানার লোকজন ডুবন্ত ট্রাকচালক ও লোকজনকে উদ্ধার করেন। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কেউ নিখোঁজ আছেন এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

ফেরি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ফেরি দুর্ঘটনার কারণ ও ফেরির মানোন্নয়ন সংক্রান্ত সুপারিশ সম্পর্কিত প্রতিবেদন নৌপরিবহন সচিবের নিকট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.