সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নমনীয়, বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি

কঠোর লকডাউনের মধ্যে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও আজ সোমবার রাজধানীর সড়কগুলোতে কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো চেকপোস্টগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আগের মতো দেখা যাচ্ছে না।

সোমবার সকালে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, আজমপুর, এয়ারপোর্ট, বিশ্বরোড, বনানী ও মহাখালী এলাকা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। এছাড়া মালিবাগ, রামপুরা, কাকরাইল, গুলিস্তান সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ি সড়কেও একই অবস্থা।

সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা গেছে, কর্মস্থলে যোগ দিতে বিপুল পরিমাণ মানুষ যানবাহনের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু কোনো গণপরিবহন না পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

আর এ সুযোগে রিকশার ভাড়াও বেড়েছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। অনেকেই কিছুটা সাশ্রয়ী বাহন ভ্যানগাড়ি যোগে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা করছেন। এক একটি ভ্যানে ছয় থেকে আটজনকে পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে। আবার যাদের সাধ্য আছে তারা মোটারসাইকেলে আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়া নির্ধারণ করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। আর সীমিত আয়ের মানুষ হেঁটেই ছুঁটেছেন কর্মস্থলে।

এয়ারপোর্ট বাসস্ট্যান্ডে সকাল ৯টা থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন মাসুদ মাহফিল বাবু। কর্মস্থল কচুক্ষেত মোড়ে। বেলা ১০টা বাজলেও কোনো পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বনানী পর্যন্ত ২০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করেছেন।

রাজধানীর বেশিরভাগ সড়কেই অফিসগামী মানুষের একই অবস্থা। অধিকাংশ জরুরি পরিষেবার অফিসগুলো তাদের কর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেনি। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কর্মজীবী এসব মানুষকে।

খিলগাঁও, সায়েদাবাদ, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল, মৎস্যভবন, শাহবাগ, বাংলামোটর এলাকাতেও এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার মানুষ রিকশা ও ভ্যানে করে গন্তব্যে পৌঁছতে দেখা গেছে। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে যানজট দেখা গেছে। প্রতিটি সিগন্যালে এক থেকে দুই মিনিট করে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

কাকরাইলের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, সকাল থেকে কোনো পরিবহণ পাচ্ছি না। দুই একটা রিকশা পাওয়া গেলেও চার থেকে পাঁচগুণ ভাড়া চাচ্ছে। বাধ্য হয়ে হেঁটেই অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। অফিসে না গেলে চাকরি থাকবে না। ফার্মগেট পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা লাগতে পারে।

বনানী ট্রাফিক বক্সে কর্মরত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই পোশাক কারখানা চালু হওয়ায় কর্মীদের সুবিধার্থে একদিনের জন্য গণপরিবহন চালু করা হয়েছিল। মানবিক দিক বিবেচনায় গতকাল দুপুর পর্যন্ত সময় থাকলেও রাত পর্যন্ত আমরা ছাড় দিয়েছি। আজ আগের মতোই রয়েছে। তবে কিছু কিছু স্থানে চেকপোস্ট কমানো হয়েছে।

এদিকে আজও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে আসছেন মানুষজন। তারা বলছেন, গণপরিবহন চালুর কথা শুনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সবকিছু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতেই একদিন পার হয়ে গেছে। আজ আবার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কোনো রকম ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ফিরেছেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত যাত্রীরা অটোরিকশা, প্রাইভটকার, মাইক্রোতে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় প্রবেশ করেছে। আর ঢাকায় প্রবেশের পর পরিবহন না পেয়ে হেঁটে নগরীতে প্রবেশ করছেন। রাজধানীতে কর্মজীবী মানুষের সঙ্গে হাঁটা ও রিকশা-ভ্যান যাত্রায় যুক্ত হয়েছে তাদেরও একটি বড় অংশ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ গণমাধ্যমে বলেন, শুধু গতকাল রবিবারের জন্য সরকার গণপরিবহন চালানোর সুযোগ দিয়েছে, আজ বন্ধ। কোনো পরিবহন চলছে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.