সেই যুবলীগ এই যুবলীগ

বিশেষ প্রতিনিধি, মিহো : দেশ স্বাধীনের পরে জাতির পিতা অনুভব করলেন যুব সমাজকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে এনে দেশ গড়ার কাজে নিয়জিত করতে হবে। তখন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত স্নেহের ভাগিনা তুখোড় মেধাবী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ ফজলুল হক মনিকে নির্দেশ দিলেন যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। যেই কথা সেই কাজ, শেখ মনি বাংলার একদল স্বাধীনতার সপক্ষের যুবকদের নিয়ে ১৯৭২ সনের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মনিকে নবগঠিত যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। সেই থেকে যুবলীগের পথচলা। ধারাবাহিকভাবে যুবলীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কাউন্সিলের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকজন নেতা যুবলীগের  চেয়ারম্যান সেক্রেটারি
এগিয়ে নিয়ে গেছেন। কখনো কখনো  নেতৃত্বের ভুলের কারনে যুবলীগ হোঁচট খেয়েছে। কখনো কখনো এই যুবলীগ বিরোধী দলে থেকে  রাজপথে  দেশবিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে জেল জুলুম, রক্ত দিয়ে রাজপথ রাঙিয়েছে, অকাতরে জীবনও দিয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে কখনো কখনো ক্ষমতাসিন দলের সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছে বা এখনো করছে। যে কোন রাজনৈতিক দল বিরোধী  বা ক্ষমতায় থাকা দল হিসেবে থাকার মধ্যে ভিন্নতা থাকে। নানক- আজম যুবলীগের চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি থাকাকালীন সময় যুবলীগ বিরোধী ও ক্ষমতাসিন দলের সহযোগী সংগঠনের  ভুমিকা পালন করেছে। সুতরাং তখন যুবলীগকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নেগেটিভ  প্রশ্নের মুখোমুখি হতে দেখা যায়নি। পরবর্তীতে ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুনুর রশিদের দায়িত্ব নেয়ার পরে যুবলীগের জৌলুশ বেড়ে ছিলো ঠিকই কিন্তু যুবলীগ গঠনতন্ত্রের বাহিরে চলতে থাকায় পদ বানিজ্য ও কেসিনো কলঙ্কিত হয়ে যুবলীগ অতিতের ঐতিহ্য হারাতে থাকলে যুবলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যুবলীগের কাউন্সিলের মাধ্যমে  নেতৃত্বের পরিবর্তন এনে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা  চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির  জেষ্ঠ পুত্র  শেখ ফজলে শামস্ পরশকে চেয়ারম্যান ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সেক্রেটারি করে  যুবলীগের দায়িত্ব দেন। বর্তমান যুবলীগ চেয়ারম্যানকে অতীতে রাজনৈতিক কোন প্লাটফর্মে দেখা যাইনি। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও উচ্চ শিক্ষিত  আদর্শবান একজন মানুষ হিসেবে সবাই তাকে জানতেন। তিনি যুবলীগ চেয়ারম্যান হবার আগে দেশের উচ্চমানের একটি বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। অতীতে কোন রাজনৈতিক প্লাটফর্মে তাকে না দেখা গেলেও মুলত তার পরিবার ও ধমনিতে বইছে বাংলার যুব সমাজের আইকন শেখ মনির রক্ত। তিনি জন্ম নিয়েই নিজের চোখে দেখেছেন অন্ধকার রাজনীতি ও তার মা, বাবার নির্মম মৃত্যু। মুলত  সেই থেকেই তার জীবনে রাজনীতি শুরু। সুতরাং চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাবার পরে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সে একজন পরিপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে  যুব সমাজ সহ দেশবাসীর কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন ।  যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হবার পর থেকেই করোনা মহামারীর কারণে আমার সাথে যুবলীগ চেয়ারম্যানের দেখা হয়নি। করোনা মহামারী সময়ে স্বাস্থ্য বিধি মনে তিনি তার বাস ভবনে  অবস্থান করে দলকে ভার্চুয়ালী দিক নির্দেশনা দিতে। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দেখা করতে পারিনি।
জানতে পারলাম যুবলীগ চেয়ারম্যান বনানীতে তার নিজস্ব  রাজনৈতিক কার্যালয় করেছেন। তিনি নিয়মিত তার নতুন কার্যালয়ে বসেন এবং দলের ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগাত  মানুষের সাথে সাক্ষাৎ দেন মতবিনিময় করেন। তাই আমি গত বুধবার যুবলীগ  চেয়ারম্যানের সাথে পূর্ব অনুমতি ছাড়াই তার বনানী কার্যালয়ে  হাজির হই। আমি গিয়ে দেখলাম অফিস ভবনের নীচতলায় জনাত্রিশের মত দর্শনপ্রার্থী বসে আছে। আমিও তাদের মধ্যে বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম। কার্যালয়ে  একজন কর্মী  এসে আমাকে বললেন চেয়ারম্যান সাহেবের অনুমতি ছাড়া উপরে উঠা ও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে না। আমি তখন আমার পত্রিকার কার্ড দিয়ে তাকে বললাম চেয়ারম্যান মহোদয়কে কার্ডটি দিন আমি অনুমতি পেলে দেখা করবো। কার্ড বাহক দুই মিনিটের মধ্যে এসে  আমাকে বললেন আপনি উপরে যান।
আমি উপরে উঠে চেয়ারম্যান মহোদয়ের সভা কক্ষে ঢুকে দেখতে পাই চেয়ারম্যান মহোদয়  সহ জনাদশেক যুবলীগ নেতা কর্মী ও বিভিন্ন  জেলা থেকে আগাত আওয়ামীলীগ যুবলীগ নেতা কর্মীদের  কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন ও তাদের কথার উওর দিচ্ছেন। আমি চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে তার পাশের চেয়ারে বসে ঘন্টা দুই এই দৃশ্য উপভোগ করলাম। বর্তমান রাজনীতিতে এতো বড় একজন নেতার কাছে গিয়ে মনের ব্যাথা আবেগ অভিযোগ অনেক সময় নিয় বলা অসম্ভব। এখানেও শেখ পরশ বেতিক্রম।  চেয়ারম্যান মহোদয় এক এক করে অনেকের কথা শুনে বিদায় দেয়ার পরে খুবই সাবলীল ভঙ্গিতে আমাকে বললেন আপনি কেমন আছেন আমি বললাম মহোদয় অনেক দিন দেখা হয় না তাই নতুন অফিস  দেখা করতে ও ছালাম দিতে আসলাম।কিছু আলোচনাও হলো। সাংবাদিক মানুষ তাই কিছু বক্তব্য  না নিয়েতো আসা যায় না।প্রশ্ন করলাম করোনা পরবর্তী  যুবলীগের দেশ ব্যাপী কি কর্মসূচি দিয়েছেন তিনি বললেন দেশ ব্যাপী জেলা উপজেলায়  বর্ধিত সভা চলছে। এর পরে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার প্রস্তুতি চলছে। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা উপজেলায় ব্যাস্ত সময় পার করছে। তৃনমুল পর্যায়ের নতুন কমিটি ও অসমাপ্ত কমিটি করার কাজ চলছে আমরা তৃনমুল থেকে ত্যগী ও সৎ যুবকদের নিয়ে নতুন কমিটি গুলো করবো যাতে করে তৃনমুল উঠে আসা যোগ্য নেতা কর্মী তৈরি হয়। এরাই একদিন যোগ্য নেতা হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্হান করে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ মনির যুবলীগকে আরো শক্তিশালী ও সবার কাছে গ্রহণ যোগ্য যুবলীগ হীসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আমি বললাম মহোদয় পুরনো কমিটি থেকে অনেক আদর্শবান ত্যাগী নেতারা বাদ পরেছে এদের মনে প্রশ্ন আমাদের অপরাধ কি আমরাতো কেসিনোট সাথে জড়িত ছিলাম না তবে কেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান অত্যান্ত আবেগ নিয়ে বললেন দেখুন আমি জানি আগের কমিটিতে যুবলীগের অনেক ভালো যোগ্য ও দলের ত্যাগী নেতা ছিলেন তারা দলের জন্য অনেক ত্যাগ শিকার করে দলটি করেছেন। গত কমিটির বেশ কিছু নেতাকে বয়সের সীমাবদ্ধতার কারনে নতুন কমিটিতে স্হান দিতে পারিনি। কিছু নেতা স্হান পায়নি নতুনদের সুযোগ দেয়ার   কারনে। দেখুন আমরা সিনিয়রা সরে গিয়ে নতুনদের সুযোগ করে দিব এটাই হওয়া উচিৎ আর সুযোগ করে দেয়াটা সুস্থ রাজনীতির অংশ। আর যারা ভাবছেন কেসিনোর সাথে জড়িত ছিলাম না তবে বাদ পরলাম  কেন আসলে এটা ভুল ধারনা। আমি দুঃখিত এমনটা ভাববেন ঠিক হবে না। আপনারা যুবলীগে নেই ঠিক তবে আপনারা দলের সম্পদ, রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনা’র সৈনিক। এখানে ভুল বোঝার কোন অবকাশ নাই। সাবেক যুবলীগ সকল নেতা আমার কাছে সন্মানের। অতিতে যুবলীগের জন্য তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তা স্বরণীয় থাকবে। অনুসন্ধানে দেখা যায়। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ অতিতের তুলনায় আরো বেশি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত। বর্তমান যুবলীগকে বলা হয় মানবিক যুবলীগ সত্যিই শেখ পরশের নেতৃত্বে যুবলীগ অতিতের ভুল ত্রুটি সংশোধন করে যুবলীগকে দেশের যুবকদের কাছে মানবিক যুবলীগ হিসেবে তৈরি করতে শেখ পরশ সক্ষম হচ্ছে। আমরা আশা করি শেখ পরশ তার  নেতা কর্মীদের মধ্যে মিষ্টি ব্যবহার, আদর্শ, ধৈর্য্য ও সততার পরশ ছড়িয়ে  দিয়ে যুবলীগকে দেশের যুবসমাজের কাছে ও দেশবাসীর কাছে সবচেয়ে একটি গ্রহণ যোগ্য যুব সংগঠনে হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.