সাত দিন ধরে পানিবন্দি উত্তরাঞ্চলের অর্ধলাখ মানুষ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে উত্তরের নদনদীতে পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নেত্রকোনা জেলার ছয় উপজেলায় কমপক্ষে অর্ধলাখ মানুষ সাত দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ১০ গ্রাম। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতেও।

নেত্রকোনা: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে কংশ, সোমেশ্বরী, উদ্ধাখালী, ধনুসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি বেড়েছে। দুর্গাপুর, বারহাট্টা, কলমাকান্দায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ও কাকৈরগড়া ইউপির প্রায় ৩৫টি গ্রাম, পূর্বধলার জারিয়া, ধলামূলগাঁও ইউপির ১০টি গ্রাম; সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী, ঠাকুরাকোনা ও বাংলা ইউপির পাঁচটি গ্রাম; বারহাট্টার ফকিরের বাজার, লামারপাড়া, সাহতা, রায়পুর; কলমাকান্দার বড়খাপন, পোগলা, কৈলাটী, নাজিরপুর ও সদর ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম; মোহনগঞ্জের গাগলাজোর, আদর্শনগর, বড়তলী বানিহারী, সমাজসহ ১০টি গ্রাম সাত দিন ধরে পানি জমে রয়েছে। এসব এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করলেও পৌঁছেনি পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা।

তবে ডিসি কাজি মো. আবদুর রহমান বলেছেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষকে সাহায্য করা হচ্ছে।

শেরপুর : পাহাড়ি মালিঝি নদীর বাঁধ ভেঙে ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা, ঘাঘরা প্রধানপাড়া, কামারপাড়াসহ ১০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে আছে কয়েক হাজার মানুষ। সরেজমিন দেখা গেছে, নদীভাঙনে ভেসে গেছে বেশ কয়েকটি মৎস্য খামার। কৃষিজমি ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

হাতিবান্ধা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় বহুবার বাঁধের বিষয়টি তোলা হয়েছে। কিন্তু কিছুই হয়নি।

উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আবদুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইমও বলেছেন, পাউবোকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কাজ হয়নি।

শেরপুর পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ইয়াসমিন খাতুন বলেন, প্রকল্পটি আগে এলজিইডি দেখত। সম্প্রতি আমাদের কাছে এসেছে। আমরা ৫০০ মিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।

সিরাজগঞ্জ : গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এতে জেলা সদরের পাঁচঠাকুরি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পাউবোর আবহাওয়া পূর্বাভাস দফতরের বরাত দিয়ে সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ জুলাই যমুনার পানি আরো বাড়তে পারে। তারপর আবার পানি কমতে পারে। পানি বাড়লেও জেলার ৮০ কিলোমিটার বাঁধের কোনো ক্ষয়ক্ষতি নেই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.