সাত আগস্ট থেকে গ্রাম পর্যায় গণটিকাদান: ওবায়দুল কাদের

‘আগামী সাত আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী গ্রামপর্যায়ে গণটিকাদান কার্যক্রম। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’

সোমবার তার বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে বর্তমানে কোনো সংকট নেই। অথচ একটি মহল ভ্যাকসিন সংকট আছে বলে আতঙ্ক তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এ স্বার্থান্বেষী মহল সংকটে মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিকে টিকাদান কার্যক্রম চলতে থাকবে, অন্যদিকে ভ্যাকসিন আসাও অব্যাহত থাকবে। এক সঙ্গে কয়েক কোটি ভ্যাকসিন জমিয়ে রেখে কার্যক্রম শুরু করার কথা যারা ভাবছেন, তারা সঠিক বলছেন না। ভ্যাকসিন একদিকে আসতে থাকবে পাশাপাশি ভ্যাকসিন প্রদানের কর্মসূচিও চলতে থাকবে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ মাঠে থেকে জনমানুষের পাশে রয়েছে, অন্যদিকে বিএনপি গৃহকোণে অবস্থান করছে। করোনা সংকটে সরকার নাকি কিছুই করছে না, বিএনপিই নাকি জনগণের সঙ্গে রয়েছে- বিএনপি মহাসচিবের এসব আজগুবি ও কাল্পনিক বক্তব্য। এটা তাদের অক্ষমতা আর ব্যর্থতা আড়াল করার অপপ্রয়াস। বিএনপি করোনা সংকটে জনগণকে পাশে আছে, এ কথা পাগলেও বিশ্বাস করে না।

এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত মিথ্যাচার বাদ দিয়ে করোনায় অসহায় ও আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সরকার নাকি করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে লুকোচুরি করছে- বিএনপি নেতাদের এ হাস্যকর অভিযোগ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, ফলাফলসহ প্রতিটি বিষয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় এবং বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এখানে তথ্য লুকানোর কোনো সুযোগ নেই। এসব তথ্য লুকিয়ে সরকারের কী লাভ? এ করোনাকালে বিএনপিকে হাজার পাওয়ারের বাতি জালিয়েও কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা করোনা সংকটকে দেখছে চোখ বন্ধ করে অন্ধের হাতি দেখার মতো করে।

গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিবের নেতিবাচক মন্তব্য সম্পর্কে  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফখরুল সাহেব একদিকে শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেন, অপরদিকে গার্মেন্টস খুলে দিলেও আবার বিরোধিতা করেন। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনাম এগিয়ে গেছে। করোনাকালে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পোশাক রফতানি কমেছে। এ প্রেক্ষাপটে রফতানি আদেশসমূহ কোনোভাবে বাতিল হোক, সরকার তা চায় না।

তিনি আরো বলেন, জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার সচেষ্ট। দেশের ভবিষ্যত এবং কল্যাণ চিন্তা করেই সরকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ করোনার শুরু থেকে জনমানুষের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী জনমানুষের পাশে থাকবে দলের নেতাকর্মীরা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.