লকডাউন দিয়ে গরিবদের ক্ষুধার্ত রাখা উচিত নয়: ইমরান

খাদ্যের ব্যবস্থা না করে টানা নয় দিনের লকডাউন দেয়ায় সিন্ধু সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এতে প্রদেশটির সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি।

ফোনে জনগণের সঙ্গে লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্বে রোববার তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

করোনা মহামারির প্রথম তিন ধাক্কা রোধে পাকিস্তান সরকারের নেয়া পদক্ষেপে সহযোগিতা করায় প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে জনগণকে ধন্যবাদ জানান ইমরান। দেশটিতে চলমান করোনার চতুর্থ ধাক্কা মোকাবিলায়ও জনগণের কাছ থেকে একই সহযোগিতা চান তিনি।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত টানা নয় দিনের আংশিক লকডাউন দিয়েছে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশ সরকার। এ বিষয়ে ইমরান বলেন, সিন্ধু সরকার লকডাউন আরোপ করতে চেয়েছিল। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ হয়। করোনার সংক্রমণ রোধে সিন্ধু সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক। তবে আমাদের দেখা উচিত, লকডাউনের হাত থেকে অর্থনীতি কী বাঁচবে?

লকডাউনের সময় দিনমজুর থেকে শুরু করে সমাজের গরিব জনগোষ্ঠী কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে লকডাউন দেয়া উচিত নয় বলে সিন্ধু সরকারকে জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

লকডাউনে ভারতের বিপর্যস্ত অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে সিন্ধু সরকারের উদ্দেশে ইমরান বলেন, জনগণের কথা না ভেবেই তাদের (ভারত) সরকার লকডাউন দেয়। ভারত সরকার উচ্চবিত্ত ও অভিজাত শ্রেণির কথাই শুধু ভেবেছিল।

সিন্ধু সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, লকডাউন আরোপ করা হলে মানুষকে ক্ষুধার্ত রাখা হয়। এই বিষয়টি সিন্ধু সরকারের জানা উচিত। জনগণকে খাবার দেয়ার মতো সম্পদ না থাকলে লকডাউন দিয়ে তাদের ক্ষুধার্ত রাখা উচিত নয়।

করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় ‘স্মার্ট’ লকডাউনের নীতি ও গণটিকাদান কার্যক্রম সঠিক পন্থা বলে জানান ইমরান।

পাকিস্তানের অর্থনীতি কঠিন সময় পেরিয়ে সুদিনে ফিরছে। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে দিকেও সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.