লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও ব্যাপক তল্লাশি ও ধরপাকড়

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জারি করা ‘লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধের’ দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ‘অপ্রয়োজনে’ বের হচ্ছেন অনেকেই। পরিস্থিতিতে বিধি ভঙ্গের কারণে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। সড়কের মোড়ে মোড়ে এবং অলিগলিতে ব্যাপক তল্লাশিও অব্যাহত রেখেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত টিম।

আজ শুক্রবার (২ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত লকডাউন দেখতে সড়কে বেরিয়ে আসা শতাধিক লোকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, পান্থপথ, শাহবাগ, মিরপুর, উত্তরা, ওয়ারী এলাকা থেকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের মতো আজও গোটা রাজধানী থেকে আটকের সংখ্যা কয়েক’শ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃতদের কাউকে ভ্রাম্যামাণ আদালতে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, কারো কারো কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার কাউকে নিয়মিত মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

আজ দুপুরে রমনা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আমেনা বেগম বলেন, ‘বাইরে কর্তব্যরত আমাদের সদস্যরা ৫ জনকে থানায় নিয়ে এসেছে। তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।’

একই দিন বিকেল পর্যন্ত ৩০ জনকে মিরপুর থেকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মিরপুর থানার ডিউটি অফিসার নুরুজ্জামান বলেন, ‘ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা আটকৃতদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।’

পুলিশ বলছে, সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরও যারা যৌক্তিক কারণ ছাড়া রাস্তায় বের হয়েছে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করবে, তাদেরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ৭ দিনের জন্য কঠোর লকডাউন শুরু হয়। সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সারাদেশেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাব দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে রাখা হয়েছে ১০৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটক। অফিস-আদালত, গণপরিবহন, শপিংমল বন্ধ। জরুরি সেবার গাড়ি ছাড়া সব যান্ত্রিক বাহন চলাচেলেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। জনসাধারণকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি কারণ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার রাস্তায় আটক হয়েছেন ৫৫০ জন। তারা ‘অপ্রয়োজনে’ ঘর থেকে বের হয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য। তবে শুক্রবার গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম হতে পারে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে শুক্রবার ছুটির দিন। এমনিতেই মানুষ রাস্তায় কম বেরিয়েছে।’

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে জানা গেছে, আজকে মোট আটক ও জরিমানাসহ অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য সন্ধ্যার মধ্যেই গণমাধ্যমেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.