জাতীয়

রূপালী ব্যাংক লিঃ লোকাল অফিস শাখা ॥॥ মহাব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ॥॥অর্থ আদায়ে আইনী নোটিশ প্রেরণ

  বিশেষ সংবাদদাতা ঃ ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ , ৬:৫৬:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

বিগত ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারী ব্যাংক গ্যারান্টি প্রাপ্তির বিপরীতে এফডি আর এর মাধ্যমে নগদ জমাকৃত ৪০,৪৯০৫০.০০ (চল্লিশ লক্ষ উনপঞ্চাশ হাজার পঞ্চাশ) টাকার বর্তমানে সুদসহ কত টাকা হয়েছে- উক্ত টাকা ফেরৎ চেয়ে আবেদন করে বার বার হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান খান। এ বিষয়ে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বীমা শাখার স্মারক নং-৫৩.০০.০০০০.৪৪১.২৭.০২১.২২.৩২৮ তাং-৩/১২/২০২৩ ইং তারিখে এ বিষয়ে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওকে পত্র দিয়েছে।
ঐ পত্রের বিপরীতে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও জানতে পারেননি আবেদনকারী মোঃ মাহবুবুর রহমান খান। অবশেষে তিনি নিরূপায় হয়ে সংশ্লিষ্ট রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখার মহা- ব্যবস্থাপক আবু নাসের মোহাম্মদ মাসুদের বিরুদ্ধে তার নিযুক্ত আইনজীবির মাধ্যমে আইনী নোটিশ প্রেরণ করেছেন। আইনী নোটিশ প্রেরণের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোঃ মাহবুবুর রহমান খান কর্তৃক নগদ এফ ডি আর এর মাধমে জমাকৃত অর্থ বিগত ৬ বছরের সুদসহ ফেরৎ না পেলে তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ ঘটনাটি ঘটেছে রূপালী ব্যাংক পিএলসি ঢাকার লোকাল অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়- বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ মাহবুবুর রহমান খান- হিমালয় পেপার এন্ড বোর্ড মিলস্ এর মালিক পক্ষের কেউ না হওয়া সত্ত্বেও উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিসট্রিবিউশন কোং লিঃ কে একটি ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের স্বার্থে বিগত ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকার নগদ অর্থ এফ ডি আর করার অনুরোধসহ জমা প্রদান করেন। উক্ত এফ ডি আর এর অর্থ জমা রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক- তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিসট্রিবিউশন কোং লিঃ কে (ব্যাংক গ্যারান্টি নং-২০১৭/১ তাং- ০৯/০১/২০১৭ ইং) ৫ বছরের জন্যে একটি ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করেন। উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির ৫ বছরের মেয়াদ ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারী শেষ হলে মোঃ মাহবুবুর রহমান খান সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টি পুনঃরায় নবায়নের জন্যে পত্র দেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টি না দিয়ে এ বিষয়ের সাথে প্রাসাঙ্গিক নয় এমন পত্র দিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকেন। ফলে তিনি তার ব্যক্তিগত পর্যায়ে জামাকৃত ৪০ লাখ ৪৯ হাজার টাকার ৬ বছরের সুদসহ ফেরৎ চেয়ে সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে মোঃ মাহবুবুর রহমান খান বলেন- “হিমালয় পেপার এন্ড বোর্ড মিলস্ লিঃ এর আমি মালিক পক্ষের কেউ নই।
ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ মোজাম্মেল হক খানসহ ৫০ জন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ছাড়পত্র অনুযায়ী জয়েন্ট স্টোক কোম্পানি কর্তৃক ঐ মালিকানা অনুমোদিত। উক্ত প্রতিষ্ঠানকে আমি কিছু জমি সেড ভাড়া প্রদান করায় ঐ কোম্পানীর ব্যবসায়িক সহযোগিতায় উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা জমা করেছি।”
মোঃ মাহবুবুর রহমান খান এর জমাকৃত অর্থ ৬ বছরের লভ্যাংশসহ কত টাকা দাড়িয়েছে- এই প্রতিনিধির এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মহা-ব্যবস্থাপক আবু নাসের মোহাম্মদ মাসুদ।
এ বিষয়ে মোঃ মাহবুবুর রহমান খান অভিযোগ করেন “রূপালী ব্যাংক লোকাল অফিসের মহা-ব্যবস্থাপক আমার জমাকৃত ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকার নগদ অর্থ এফ ডি আর হিসেবে জমা না করেই আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আমি নিরাপক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।”

 

আরও খবর

Sponsered content