রাতেই পাটি-চাটাই নিয়ে টিকাকেন্দ্রে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী যোগান না থাকায় টিকা না নিয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। তাই গভীর রাত থেকেই টিকাকেন্দ্রে ভিড় জমাতে দেখা গেছে অনেককে। এ সময় নারী-পুরুষ পৃথক লাইন দেখা যায়। পুরুষের চেয়ে নারীদের লাইন বেশি লম্বা।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) ভোররাতে রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে সামনে দেখা যায়, এক পাশে নারী অন্য পাশে পুরুষদের লাইন। কেউ চেয়ারে কেউ বা পাটি-চাটাই নিয়ে রাস্তায় বসে আছেন। সবার অপেক্ষা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য।

অপেক্ষারত একজন ষাটোর্ধ মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, ‘আগে দুই দিন লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা পাইনি। এত বেশি ভিড় ছিল যে লাইন শেষ হওয়ার আগেই টিকা শেষ। তাই আজ রাত ১২টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। রাতে এখানেই থাকব। সকালে টিকা নিয়ে বাসায় যাব।’

লাইনে বিভিন্ন বয়সের মানুষকে দেখা যায়। ২৯ বছরের তরুণ রবীন বলেন, ‘সরকার এখন ফ্রি টিকা দিচ্ছে। পরে এ টিকা দিতে কত টাকা লাগবে কে জানে? তাই টিকা নিতে রাতেই এসেছি। কালকের পর তো আর টিকা পাব না। এখন আইডি কার্ড দিলেই টিকা দিচ্ছে। দিনে কাজ করতে হয়, সময় পাওয়া যায় না। রাতে টিকার জন্য অনেকে লাইন ধরেছেন শুনে আমিও এসেছি। সারা রাত থাকব, সকালে টিকা নিয়ে কাজে যাব।’

কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ৭২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল আলম শামীম বলেন, ‘যারা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসছে তাদের সিরিয়াল অনুযায়ী টিকা দিচ্ছি। কিন্তু যে পরিমাণ মানুষ এসেছেন তার তুলনায় টিকা খুবই কম। আমাদের মাত্র ৩৫০ ডোজ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিন হাজারের বেশি লোক টিকার জন্য ভিড় করছেন। তাই সবাইকে আমরা টিকা দিতে পারছি না।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সারাদেশে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন এক কোটি ৫০ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫০ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৫ জন। সবমিলিয়ে দেশে মোট কোভিড টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা দুই কোটি ৮৯ হাজার ১০৭ জন।

গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর শুধু নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা দেওয়া শুরু হয়। এরপর গণটিকা কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। গত ৭ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে। নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন-ওয়ার্ড ও বিভিন্ন অঞ্চলভেদে ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় টিকা কম থাকায় অনেককে টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.