রাইড শেয়ার অ্যাপসে অরাজকতা: সিস্টেমের পরিবর্তন চান শওকত

মোটরসাইকেল নয়, ট্রাফিক আইন ও রাইড শোয়ারিং প্রচলিত সিস্টেম এর পরিবর্তন চান কেরাণীগঞ্জের রাইড শেয়ার অ্যাপসের চালক শওকত আলী।

তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাইড শেয়ার অ্যাপসভিত্তিক যে অরাজকতা চলছে, আমি এই সিস্টেমের পরিবর্তন চাই। আমি চাইলে ১০টি মোটরসাইকেল নিতে পারব। সবাই উপহারের কথা বলছে, কিন্তু সিস্টেম বদলানো নিয়ে কেউ কোনো কথা বলে না। সিস্টেমের পরিবর্তন চাই আমি, যাতে কেউ হয়রানি না হয়। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয় নিয়ে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগের দাবি করেন তিনি।

‘অন্যের কাছ থেকে মোটরসাইকেল নেয়ার জন্য আমি গাড়িতে আগুন দেইনি। চতুর্মুখী চাপ আর সইতে পারছিলাম না। এভাবেই নিজের মনের কষ্ট প্রকাশ করেন সম্প্রতি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে আলোচিত হওয়া কেরাণীগঞ্জের বাইকচালক শওকত আলী।

দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো শতকরা ১৭% থেকে ৩৫% হারে অ্যাপসের চার্জ কেটে নিচ্ছে। এই একঘেয়েমি সিস্টেম এর পরিবর্তন করা দরকার। কারণ, এটা কোন সিস্টেম যে শুধু একটি অ্যাপস তৈরি করে তারা মনমতো চার্জ কাটছে। তাহলে আমাদের সারাদিনের পরিশ্রমের মূল্য কোথায় রইল। একজন পেশাদার চালক সঠিক কাগজপত্র নিয়ে, যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধিত হয়ে, রাইড শেয়ারিং করতে, নিজের গাড়ি, নিজের টাকায় তেল, মোবাইল, ইন্টারনেট বিল ও জীবনরে ঝুঁকি নিয়ে পথে পথে গাড়ি চালান। আর অ্যাপস কোম্পানিগুলো শতকরা যে পরিমাণ চার্জ কাটছে, এতে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের বাকি রইল কোথায়? এর উত্তর নেই।’

‘ট্রাফিক পুলিশ কোন সিস্টেম রক্ষা না করে মিথ্যা মামলা দিলে অ্যাপস কোম্পানিগুলো কোন দায়ভার নিচ্ছে না। তাহলে আমরা কোথায় যাব? বুকের ভেতর অনেক কষ্ট নিয়ে রাইট শেয়ারিংয়ে নেমেছি। তাই বলে রাইড শেয়ারিং কোম্পানির অদূরদর্শিতা ও ট্রাফিক পুলিশের একঘেয়েমিতে আমরা মামলার পর মামলার বলি হয়েই যাব। ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল অ্যাপস ব্যবহার করে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো ছুড়ি চালাচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের চিন্তা করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন ব্যক্তি রাইড শেয়ারিংয়ে নামে পেটের দায়ে। কিন্তু যা আয় করা হয়, তা যদি মামলার জরিমানা হিসেবে দিতে হয়, তাহলে কাগজপত্র ঠিক রেখে কি লাভ। ট্রাফিক পুলিশ মন চাইলেই মামলা দিচ্ছে, হয়রানি হচ্ছে রাইড শেয়ারিং করা প্রতিটি চালক। অ্যাপসের অতিরিক্ত চার্জ ও ট্রাফিক পুলিশের অযথা মামলা এই দুটি সিস্টেমের সমন্বয়হীনতার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতি।’

প্রসঙ্গত, রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডে ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেয় রাইড শেয়ার চালক শওকত আলী। এই ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। পরে সেটি ভাইরাল হয়। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় জনতা ইনস্যুরেন্সের সামনে এ ঘটনাটি ঘটার পর পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল ও শওকত আলীকে বাড্ডা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.