যতই দিন গড়াচ্ছে সড়কে বাড়ছে চাপ

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান কঠোর লকডাউনের ১১তম দিন আজ। কঠোর লকডাউনে যতই দিন গড়াচ্ছে, সড়কে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে। আজও সড়কে মানুষ ও যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে আজও মাঠে তৎপর রয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছেন তারা।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলে জরিমানা এবং গ্রেফতারও করা হচ্ছে। তবে জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিতরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তল্লাশির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে গন্তব্যে বা কর্মস্থলে যেতে পারছেন।

গত কয়েকদিন ধরে বিটিআরসি ও বিভিন্ন গণপরিবহনে স্টাফ বাস স্টিকার ব্যবহার করে সড়কে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। এসব পরিবহনের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

রোববার সকালে রাজধানীর উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, আব্দুল্লাহপুর, জসীমউদ্দীন, রাজলক্ষ্মীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, খাদ্যপণ্য সামগ্রীর পরিবহন চলাচল করছে। সকাল গড়িয়ে সময় যতোই গেছে সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও ততই বেড়েছে।

এয়ারপোর্ট পুলিশ বক্সে পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানান, কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণার প্রথম দুই-তিনদিন সড়কে যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কম ছিল। এরপর থেকে দিন যতই যাচ্ছে মানুষের উপস্থিতি ও বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা ও মাইক্রোবাস এ তিন পরিবহনের সংখ্যা অনেক বাড়ছে। এছাড়া মোটরসাইকেলেও দুজন করে অনেকেই যাচ্ছেন।

এদিকে কঠোর লকডাউনের দশম দিনে শনিবার রাজধানীতে ৭৯১ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। এদিন দিনব্যাপী ডিএমপির ৫১টি থানার বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া নবম দিনে শুক্রবার রাজধানীতে ৫৮৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১২৯ জনকে এক লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক হাজার ৭৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার বেশি, যা একদিনে সর্বোচ্চ জরিমানা আদায়।

এদিকে দেশে প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত শুক্রবার দেশে সর্বোচ্চ ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শনিবার মারা গেছেন ১৮৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ হাজার ১৮৯ জনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.