মানুষ যেভাবে নিজের অভিশাপ নিজেই ডেকে আনে

‘লানত’ বা অভিশাপ বলা হয় আল্লাহর রহমত ও করুণা থেকে দূরে সরে পড়াকে। কারো ওপর আল্লাহর অভিশাপ পতিত হলে সে কখনো আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না। যার পরিণাম ইহলৌকিক ও পারলৌকিক অপমান-অপদস্থতার শাস্তি।

অভিশাপ নিন্দনীয় : কাউকে অভিশাপ করার মানে হলো, সে যেন আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়, সেই বাসনা করা। যা একজন মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। মুমিন সর্বদা অপর ভাইয়ের কল্যাণ কামনা করে। কারণ প্রিয় নবী (সা.) তাঁর ওপর অত্যাচারকারী কাফির-মুশরিকদেরও অভিশাপ দেননি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-কে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি মুশরিকদের ওপর বদদোয়া (অভিশাপ) করুন। তিনি বলেন, আমি তো অভিসম্পাতকারীরূপে প্রেরিত হইনি; বরং প্রেরিত হয়েছি রহমতস্বরূপ। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫০৭)

অভিশাপ কখনো বাস্তব হয়ে পড়ে : কিছু মানুষ পান থেকে চুন খসলেই নিজের আদরের সন্তানকে পর্যন্ত অভিশাপ দিয়ে বসে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ কখনো কখনো সত্যি সত্যিই মানুষের অভিশাপ কার্যকর হয়ে যায়। আবু বারজা আল আসলামি (রা.) বলেন, একবার এক বালিকা একটি উটনীর ওপর আরোহিত ছিল। সেটির ওপরে তার গোত্রের কিছু মালামালও ছিল। হঠাৎ সে নবী (সা.)-কে দেখতে পেল। আর পাহাড়ের কারণে তাদের পথটি ছিল সংকীর্ণ। ফলে উটের রশি টেনে বালিকাটি বলল, ‘হে আল্লাহ, এর ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করুন।’ বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসুল (সা.) বলেন, যে উটনীর ওপর অভিসম্পাত করা হয়েছে, সেটি যেন আমাদের সঙ্গে না থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫০০)

অভিশম্পাত মুমিনের জন্য অশোভনীয় : রাসুল (সা.)-এর এই ঘটনা দ্বারা বোঝা যায় যে একজন মুমিন কখনো এ ধরনের আচরণ করতে পারে না। এটি মুসলিমদের আচরণ নয়। আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিন কখনো দোষারোপকারী ও নিন্দাকারী হতে পারে না, অভিম্পাতকারী হতে পারে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭)

গ্রামগঞ্জে মানুষের ঝগড়ায় ‘লানত’ শব্দটি বেশি শোনা যায়। সাধারণত রাগের মাথায় মানুষ এ ধরনের কাজ বেশি করে। অতিরিক্ত অভিশাপ দেওয়া কারো কারো অভ্যাসে পরিণত হয়। অথচ অন্যকে অভিশাপ দেওয়া হারাম। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা পরস্পর পরস্পরকে আল্লাহ তাআলার অভিসম্পাত, তাঁর গজব ও জাহান্নামের বদদোয়া কোরো না। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৬)

অভিশাপ নিজের ওপর এসে পড়ে : এভাবে মানুষকে অভিশাপ দিলে তা নিজের ওপর পড়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। আবু দারদা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন কোনো বান্দা কোনো বস্তুকে অভিশাপ দেয়, তখন ওই অভিশাপ আকাশের দিকে অগ্রসর হয়। অতঃপর সেই অভিশাপের আকাশে ওঠার পথকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন তা আবার দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তনের জন্য রওনা হয়; কিন্তু দুনিয়ায় আসার পথও বন্ধ করে দেওয়ায় সে ডানে-বাঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অবশেষে অন্য কোনো পথ না পেয়ে যাকে অভিশাপ করা হয়েছে, তার কাছে ফিরে আসে। তখন সেই বস্তু যদি অভিশাপের যোগ্য হয়, তাহলে তার ওপর ওই অভিশাপ পতিত হয়, অন্যথায় অভিশাপকারীর ওপরই তা পতিত হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯০৫)

তাই কারো ওপর রাগ হলেই তাকে অভিশাপ দিতে নেই; বরং তার হিদায়াতের দোয়া করাই বেশি কল্যাণকর। প্রত্যেক মানুষই আল্লাহর মাখলুক, তাই অহেতুক দয়াময় আল্লাহর কাছে তার অন্য মাখলুকের ধ্বংস কামনা করা মহান আল্লাহ পছন্দ করেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ধরনের কাজ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.