মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গাড়াদিয়া রাস্তা সংস্কারে অনিয়ম

বাবুল আহমেদ মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পৌঁনে এক কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাস্তায় এক ফুট মাটি ফেলার পরিবর্তে আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তাটি নিচু হওয়ায় আসন্ন বর্ষায় ডুবে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাস্তাটি সংস্কার করা হলেও কোনো কাজে আসবে না বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া পূর্ব পাড়া মিজান মার্কেট থেকে নবু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়। এমপির বিশেষ কোটায় কাবিটা প্রকল্প থেকে রাস্তাটির জন্য ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থ রাস্তাটি এক ফুট উচু করার কথা। কিন্তু মাটি ফেললে রাস্তায় কাঁদা হবে এই অজুহাতে এক ফুট উচু করার পরিবর্তে আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ ইট দিয়ে সোলিং করা হচ্ছে। সোলিংয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট।

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নম্বরবিহীন ইট বিছানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা। দু’পাশে এজিং করে বসানো হচ্ছে ইট। কাজ করার সময়ই অনেক ইট ভেঙে যেতে দেখা গেছে। ইটের কালার পোড়া মাটির মতো। শ্রমিকরা জাািনয়েছেন, এসব ইটের কোনো নম্বর নেই। সবচেয়ে বাজে ইট বলতে যা বোঝায়, এগুলো তাই।

আরব আলী নামে এক শ্রমিক বলেন, ইট যতো খারাপই হোক, বৃষ্টি হলে কিংবা পানি দিয়ে ভেজালে ইট দেখতে এক নম্বরের মতো মনে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হারু মিয়া, জাবেদ, রহিমা বেগম, জব্বারসহ একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, এভাবে ইট বিছিয়ে কোন উপকারই হবে না। নম্বর ছাড়া ইট আর ক’দিনই টিকবে? বর্ষায় রাস্তা ভেঙে আবার আগের মতো হয়ে যাবে। এই রাস্তা ঠিক রাখতে হলে উচু করতে হবে।

জানা যায়, রাস্তাটি সংস্কারের কাজ করছেন বায়রা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি শেখ জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সে টাকায় ভালো কাজ করা সম্ভব নয়। কাজেই অল্প টাকায় যতটুকু করা যায়, করছি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান জিন্নাহ বলেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। কাজ শুরু হওয়ার পর আমি জানতে পারি রাস্তাটি এক ফুট উচু করা হবে। কিন্তু মাটি দিয়ে উচু না করে ইট সোলিং করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে সিংগাইর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামকে কল করা হলে সেলিম নামের একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি বলেন, রাস্তাটি মাটি দিয়ে করার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে যাবে বিধায় ইট সোলিং করা হচ্ছে। এতে রাস্তাটি অনেক ভালো হচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.