মহামারিকালের দ্বিতীয় বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। পাস হওয়া বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট এবং মহামারিকালের দ্বিতীয় বাজেট।

জানা গেছে, বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে তিন লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের কার্যাদি নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ প্রদান ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্ব প্রদানের জন্য আনীত বিলটি (নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২১) পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত থাকলেও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ছিলেন না। আগামীকাল ১ জুলাই নতুন অর্থবছর শুরু হবে।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হবে এ বাজেট। গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল সরকারের এই ব্যয়ের ফর্দ সংসদে তুলে ধরেছিলেন।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের পর পুরো অধিবেশনজুড়ে এর ওপর আলোচনা করেন এমপিরা। তবে মহামারির কারণে গতবারের মতো এবারও বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে সীমিত আকারে।

দুই দিন আলোচনা করেই চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়। সপ্তাহখানেক বিরতি দিয়ে টানা চার দিন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা চলে। এরপর আরো ১০ দিন বিরতি দিয়ে দুই দিন বাজেটের ওপর আলোচনা হয়।

সব মিলিয়ে শতাধিক এমপি এবার বাজেটের উপর আলোচনা করেন। সম্পূরক বাজেটসহ বাজেটের উপর ছয় দিনে ১৫ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়।

এর আগে, গত বছর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন হয়েছিল। নয় দিনের ওই বাজেট অধিবেশনে ১৮ জন এমপি ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট আলোচনা করেছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.