ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত নারী, টাকা দিয়েও মিলছে না ওষুধ

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে (মিউকরমাইকোসিস) আক্রান্ত ওই নারী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বাজারে এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের সংকট থাকায় বিপাকে পড়েছেন তার স্বজনরা।

গত তিনদিন খুঁজেও চট্টগ্রাম ও ঢাকার কোথাও অ্যান্টি ফাঙ্গাল ওষুধ ‘লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি’ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, জুনের মাঝামাঝিতে করোনা ধরা পড়ে পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ফেরদৌসি বেগমের। এরপর প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে স্টেরয়েড দেন চিকিৎসকরা।

ফেরদৌসি বেগমের মেয়ে তাহমিনা বেগম বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার পর ১৩ জুলাই মায়ের করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। ১৫ জুলাই হঠাৎ তিনি দাঁতে ব্যথা অনুভব করেন। শুরুতে এটি দাঁতের সমস্যা ভেবেছিলাম আমরা। তাকে একজন দন্ত চিকিৎসকের কাছেও নেয়া হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে মা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত বলে ধারণা করেন ওই চিকিৎসক।

বিষয়টি মাথায় নিয়ে মাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে বায়োপসি রিপোর্ট দেখে মা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা। এরপর তাকে লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেন। ওষুধটি চট্টগ্রামে না পেয়েও ঢাকায়ও খোঁজ করি। সেখানেও পাওয়া যায়নি।

তাহমিনা বলেন, মায়ের চিকিৎসায় এই ওষুধ অত্যাবশ্যকীয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস ওষুধটি উৎপাদন করে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের কাছেও এটি মজুত নেই বলে জানান তারা। তাছাড়া ওষুধটি অন্য কেউ উৎপাদনও করে না। এখন এই ওষুধ আমরা কোথায় পাবো? আমরা গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ জানাই, আমার মায়ের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করুন।

তিনি আরো বলেন, শুনেছি ৫০ মিলিলিটার ইনজেকশানের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৫ হাজার টাকা। আমার মাকে ২৫০ মিলিলিটার করে সাত দিন লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন ৭৫ হাজার টাকার ইনজেকশান দিতে হবে। তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস চট্টগ্রাম দক্ষিণের এরিয়া ম্যানেজার শামীম মিয়া বলেন, লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি ওষুধটি এ মুহূর্তে বাজারে নেই। অন্য কোনো কোম্পানি ওষুধটি তৈরি করে কী না তা আমার জানা নেই।

চমেক হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের মুখপাত্র ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুযত পাল বলেন, ওই নারী মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করছি আমরা। ফলে তাকে লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাজারে ওষুধটির সংকট বলে জেনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.