বিক্রি না হওয়ায় অশ্রুসিক্ত নয়নে বাড়ি ফিরেছে গরু বিক্রেতারা

লাভের আশায় খামারি ও ব্যবসায়ীরা উত্তরবঙ্গ থেকে হাজার হাজার পশু বিক্রির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার হাটে উঠিয়েছিলেন। কিন্তু ন্যায্যমূল্য ও ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি হয়নি অসংখ্য পশু। ফলে বিপাকে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের খামারি ও ব্যবসায়ীরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পথ ধরে গতকাল মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত পশু নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে উত্তরবঙ্গের খামারি ও ব্যবসায়ীদের।

জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে অসংখ্য খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু বিক্রির জন্য নিয়েছিলেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার হাটে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে মানুষের কাছে টাকার সংকট থাকায় অনেকেই এবার কোরবানি দেয়নি। এজন্য এবার গরুর চাহিদা একেবারেই কম ছিল। এ কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে নেওয়া অর্ধেক গরুও বিক্রি হয়নি। এর আগে এত গরু কখনও উত্তরবঙ্গে ফেরত যায়নি। ফলে খামারি ও ব্যবসায়ীরা পড়েন চরম দুশ্চিন্তায়। গতকাল সন্ধ্যা থেকে এ সড়ক ধরে খামারি ও ব্যবসায়ীরা ট্রাকযোগে পশু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বুধবার (২১ জুলাই) ঈদের দিনেও এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য পশুবাহী ট্রাক যাচ্ছে উত্তরবঙ্গে। খামারি ও ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে তাকালেই বোঝা যায়- কতটা হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। একদিকে হতাশা আর অন্যদিকে যানজটে নাকাল। সব মিলিয়ে তারা পড়েছিলেন চরম বেকায়দায়।

এদিকে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ভোররাত থেকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ সড়কে জট লেগেই ছিল। দুপুর থেকে সড়ক স্বাভাবিক হয়েছে। তবে অসংখ্য যাত্রীর এই সড়কেই ঈদের আনন্দ ম্লান হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর এলাকায় কথা হয় একাধিক খামারি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে। এসময় কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যবসায়ী সুজন বলেন, আমরা ১৪টি গরু নিয়ে ঢাকার গাবতলি হাটে উঠিয়েছিলাম। ১৪টির মধ্যে ৩টি গরু বিক্রি হয়েছে। গরুতে লাভ হয়নি, কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। হাটে ক্রেতা ও দাম কম থাকায় আরও ১১টি গরু বিক্রি করতে পারিনি। ট্রাক ভাড়া ও আমাদের খরচই উঠছে না। গরু তো আর ফেলে দেয়া যাবে না। এজন্য বাড়িতে ফিরিয়ে নিচ্ছি। স্থানীয় হাটে বিক্রি করবো। তিনি আরও বলেন, পরিবারের সঙ্গে একত্রে ঈদ করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা আর হলো না, সড়কেই ঈদ কাটছে। এখনও কিছু খাইনি।

পাবনা থেকে আসা শহিদুল নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ১৪টি গরু হাটে নিয়েছিলাম। সেখান থেকে ১০টি গরু বিক্রি হয়েছে। ১০টি গরুতে আমাদের চার লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী রনি বলেন, ১৮টি গরু নিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ১৫টি গরু ক্ষতি দিয়ে বিক্রি করেছি। হাটে ক্রেতা ও দাম একেবারেই কম ছিল। আরও তিনটি গরু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

কুষ্টিয়া থেকে আসা খামারি শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি চারটি গরু চট্টগ্রামের হাটে নিয়েছিলাম। চারটিই বিক্রি হয়েছে। এই চারটি গরুতে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

সোহেল নামের আরও একজন বলেন, আমি ৭টি গরু হাটে নিয়েছিলাম। বিক্রি না হওয়ায় ৭টিই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এর আগে এত গরু কখনও উত্তরবঙ্গে ফেরত যায়নি বলে জানা গেছে।

টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর আবুল কালাম বলেন, গতকাল থেকেই পশুবাহী ট্রাক ফিরছে উত্তরবঙ্গে। আজকেও সকালে সড়কে পশুবাহী ট্রাকের চাপ ছিল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.