বন্যা-ভূমিধস: ভারত-নেপালে নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই

ভারত ও নেপালে গেল কয়েক দিনের বন্যায় ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আরও অর্ধশতাধিকের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশ দুটির সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরা।

বন্যায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়া ও ভয়াবহ ভূমিধসের কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ভারতের উত্তরাখণ্ড প্রদেশের এক কর্মকর্তা বুধবার (২০ অক্টোবর) জানান, গত কয়েকদিনের বন্যায় ৪৬ জন মারা গেছেন এবং ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

দক্ষিণ ভারতের কেরালা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছেন, সেখানে মৃতের সংখ্যা ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। উত্তরাখণ্ড প্রদেশের নৈনিতাল অঞ্চলে গত মঙ্গলবার ভোরে ৭টি পৃথক ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হন। ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসে একাধিক স্থাপনা ধসে পড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কর্মকর্তা প্রদীপ জৈন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন এক পরিবারের সদস্য। বিশাল ভূমিধসে চাপা পড়ে তাদের বাড়ি। এতে করে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

উত্তরাঞ্চলের আলমোরা জেলায় আরেকটি ভূমিধসের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। এদিকে হিমালয় রাজ্যের দুটি জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গেল সোমবার কমপক্ষে ছয়জন নিহত হন।

অপরদিকে ভারতের ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও সকল ধর্মীয় স্থান ও পর্যটন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রামগড়ের কোসি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে একটি রিসোর্টের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি পর্যটক আটকা পড়েছে।

অপরদিকে নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় গতকাল বুধবার নিহতের সংখ্যা ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দিল কুমার তামাং বলেন, ভারতের সীমান্তবর্তী পূর্ব নেপালের পাঁচথর জেলায় ২৪ জন, প্রতিবেশী ইলামে ১৩ জন এবং পশ্চিম নেপালের দতিতে ১২ জন নিহত হন। অন্যরা পশ্চিম নেপালের অন্য এলাকায় মারা যান। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত ও ২৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.