বদিকে বাবা দাবি করে বেকায়দায় যুবক

কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে নিজের বাবা দাবি করে মোহাম্মদ ইসহাক নামের টেকনাফের এক যুবক কর্তৃক দায়ের মামলার সমনের চিঠি আদালতে ফেরত না আসায় নির্ধারিত দিনে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১ টায় মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী কফিল উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার মূল-বিবাদীদের বিরুদ্ধে জারি করা সমনের চিঠি আদালতে ফেরত না আসায় নির্ধারিত দিনে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়নি।

গত ১৩ ডিসেম্বর টেকনাফের সহকারি জজ মো. জিয়াউল হকের আদালতে কক্সবাজার-৪ আসনের (উখিয়া-টেকনাফ) সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে নিজের বাবা দাবি করে মামলা দায়ের করেন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার ২৭ বছর বয়সী যুবক মোহাম্মদ ইসহাক। এতে ২ নম্বর মূল-বিবাদী করা হয়েছে বদির চাচা ও টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলামকে।

মামলা এজাহারে বাদী করেছেন, বিগত বছর ১৯৯২ সালের ৫ এপ্রিল টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদের ধুমপাড়ার বাসিন্দা আবুল বশরের মেয়ে সুফিয়া খাতুনকে পরিবারের অন্য সদস্যদের অজ্ঞাতসারে বিয়ে করেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। পরবর্তীতে সুফিয়া সন্তান সম্ভাবা হলে বদি ও তার পরিবার ওই বিয়ে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে বিগত ১৯৯৪ সালের ৪ এপ্রিল বদির বাবা এজাহার মিয়া ওরফে এজাহার কোম্পানী তার বাড়ির মিস্ত্রি মোহাম্মদ ইসলামের সঙ্গে সুফিয়াকে জোর করে দ্বিতীয় বিয়ে দেন।

পরবর্তীতে মোহাম্মদ ইসলাম ও সুফিয়া খাতুনের মধ্যে বিয়ের ৫ মাস পর বিগত ১৯৯৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী মোহাম্মদ ইসহাকের জন্ম হয়। তবে পিতৃত্বে দাবি নিয়ে মোহাম্মদ ইসহাক ও তার সুফিয়া খাতুন বেশ অনেকবার সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও নানা কৌশলে তিনি সময়ক্ষেপন করেছেন বলে মামলার বাদী দাবি করেছেন।

তবে এ নিয়ে মামলা দায়ের করার ২ দিন পর আব্দুর রহমান বদি বাদীর দাবি অস্বীকার করে বলেছিলেন, কেউ মামলা করে থাকলে আগে মামলার নথিপত্র দেখে তারপর তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।

মামলায় বদিকে বাবা দাবি করলেও বাদী মোহাম্মদ ইসহাকের জন্মনিবন্ধন সনদের বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘মোহাম্মদ ইসলাম’। বাদীর আইনজীবী কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাদী মোহাম্মদ ইসহাক পিতৃত্ব দাবি করে আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেছিলেন এ মামলায় জারি করা সমনপত্র আদালতে ফেরত আসার কথা ছিল, আসেনি।

তাই এ সুযোগে উনি (আব্দুর রহমান বদি) একটা সময় পেয়েছেন, সেই জন্য আদালতে হাজির হননি। এটা মিথ্যাও হতে পারে, আবার সত্যও হতে পারে। যেভাবেই হোক উনি সমনটা পাননি। এটা আদালতের রেকর্ড অনুসারে। বাদীর এ আইনজীবী বলেন, এটা (সমনপত্র) যখনই আসবে তখনই দেখা যাবে। আজকে কোর্টের একটাই করণীয় আছে তাকে (বদি) আরেকটা তারিখ দেওয়ার, সমনটা জারি করানোর।

কফিল উদ্দিন বলেন, আসামির উপর নির্ভর করছে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমটা কি দাঁড়াবে। যদি আসামি আদালতে হাজির হয়ে নিজের দায়টা স্বীকার না করেন তাহলে ডিএনএ টেস্ট করার আবেদন জানানো হবে। এতে প্রকৃত সত্য উন্মোচন হবে। এদিকে আদালতের জারি করা সমনপত্র নিয়ে জারিকারক টেকনাফে গিয়ে যোগাযোগ করলেও মামলার বিবাদীরা সেটি গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন বাদী মোহাম্মদ ইসহাক।

ইসহাক বলেন, সমনপত্র নিয়ে জারিকারক টেকনাফে তার বাবা আব্দুর রহমান বদির বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাকে (জারিকারক) বাসার গেইটের ভিতরে ঢুকতে দেননি। তার বাবা (বদি) ঢাকায় অবস্থান করছেন জানালেও বাড়ীতে থাকা লোকজন সমনপত্রটি গ্রহণ করেনি। এছাড়াও মামলার ২ নম্বর মূল-বিবাদী টেকনাফের পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলামও সমনপত্র গ্রহণ না করায় জারিকারক ফেরত আসেন বলে দাবি করেন মামলার এ বাদী।

আরও পড়ুন
Loading...