বঙ্গবন্ধু উপাধির প্রস্তাবক রেজাউল হক আর নেই

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ খেতাব প্রদানকারী তৎকালীন ছাত্রনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুধবার রাতে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। আজ বাদ মাগরিব গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার দেহ দাফন করা হবে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী করবস্থানে।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থাণের পটভূমিতে ২৩শে ফেব্রুয়ারি থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিটি জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু এর প্রায় সাড়ে তিন মাস আগেই ১৯৬৮ সালের তেসরা নভেম্বর ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক কলেজের স্মরণিকা’য় ‘আজব দেশ’ শিরোনামে এক লেখায় শেখ মুজিবকে প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন।

নিভৃতচারী সেই ছাত্রনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাকের প্রয়ানও অনেকটা নিভৃতেই হলো। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে- বুধবার মধ্যরাতের পর তার ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়। দ্রুত তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাকের বাড়ী চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। ১৯৬৭ সালে এসএসসি পাস করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে শেখ মুজিবের ছয় দফা সম্পর্কে সারথী ছদ্মনামে তাঁর এক লেখায় প্রথম শেখ মুজিবকে ‘পূর্ব বাংলার নয়নমনি মুক্তি-দিশারি ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে উপাধী দেন। একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনও শেষ হলো একাত্তর বছর বয়সে।

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মুশতাক কেএন হারবার কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে শিপিং, ইনডেনটিং, আমদানি ও রফতানি ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সদস্য এবং চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার সভাপতি হিসেবেও।

রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক দুই মেয়ে ও এক ছেলে, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.