ফের জামায়াতেই ঢুকছে হেফাজতের বাদ পড়ারা

বাংলাদেশ হেফাজতের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী সম্প্রতি ৮১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেছেন। তীব্র বিতর্ক এবং চাপের মুখে আগের কমিটি তিনি বাতিল করেছিলেন এবং একটি আহ্বায়ক কমিটি করেছিলেন। সেই আহ্বায়ক কমিটি থেকে নতুন কমিটি গঠন করেছেন।

তবে নতুন কমিটির অনেকেই এ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা নতুন কমিটির সঙ্গে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাছাড়া আহমদ শফীর পুত্র আনাস মাদানীও এ কমিটিকে দুরভিসন্ধিমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কিন্তু মজার ব্যাপার হল যে, এর আগে যে জুনায়েদ বাবুনগরী মামুনুল হক-আজিজুলদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটিতে বাদ পড়া অনেকেই এখন জামায়াতে ইসলামে ঢুকে পড়ছে।

আহমদ শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী সম্মেলন করে হেফাজতের আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। যে কমিটিতে চারদলীয় জোটের অনেকেই ছিল। রাজনৈতিক পরিচয় ছিল তাদের প্রধান। তারা হেফাজতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।

এদের মধ্যে মামুনুল হক ছিলেন অন্যতম। এছাড়া আরো কয়েকজন ছিল যারা খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু এখন অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, এদের সঙ্গে আসলে জামায়াতের গোপন সম্পর্ক ছিল এবং জামায়াতই হেফাজতকে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং সরকারবিরোধী অবস্থানে দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছিল। আর সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই নতুন কমিটি গঠন করার পরপরই জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানে যান।

প্রথমে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে আন্দোলনে নামে হেফাজতে ইসলাম। এ আন্দোলনের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের যে হাত ছিল সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে।

আর এরপরই বিভিন্ন অপরাধে হেফাজতের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এর প্রেক্ষিতেই জুনায়েদ বাবুনগরী কমিটি বাতিল করেন। নতুন কমিটির আগে তিনি বলেছেন যে, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তাদের এ কমিটিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু যাদের আগে রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তাদের কী অবস্থা। এটি খোঁজ নিতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

দেখা যাচ্ছে যে, যারা কমিটিতে নেই তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছেন। আর যারা গ্রেফতার হননি, তারা জামায়াতের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করছেন এবং জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জামায়াতে যোগ না দিলেও জামায়াত দ্বারা যে তারা নিয়ন্ত্রিত, এ যোগাযোগের মাধ্যমে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। এ হেফাজতের উগ্রবাদী অংশটি জামায়াতের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে বহুবার বলা হচ্ছিল এবং অনেক বোদ্ধা বলছিলেন যে, হেফাজত এবং জামায়াতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বাদ পরারা যখন জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তখন এ বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণে কোণঠাসা হয়ে আছে এবং সেখানে গিয়ে তারা রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন অন্য দলের ওপর ভর করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং দেশের বাইরে থেকে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করা জামায়াতের রাজনীতির মূল কৌশল। যেটি জামায়াত বহুবার করেছে।

এখন যে সমস্ত ইসলামী উগ্রবাদী সংগঠনগুলো রয়েছে, সেগুলো সবই জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে। বিপুল অর্থ-সম্পদ থাকার কারণে জামায়াত হেফাজতের যে সমস্ত নেতারা বাদ পড়েছেন, তাদের এখন পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছেন বলেও জানা গেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.