পেঁয়াজে আগুন, সতর্ক ‘অনভিজ্ঞ’ ব্যবসায়ীরা

কয়েকদিন ধরে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। কেজিতে দাম বেড়েছে ১৫-২০ টাকা। আগের বছর ভারত থেকে পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধ করে দিলে বিকল্প দেশ থেকে আমদানি করতে গিয়ে শতকোটি টাকা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিলেন শতাধিক ব্যবসায়ী। ফলে এবার দাম বাড়লেও আমদানির সেই তড়িঘড়ি দেখা যায়নি তাদের মধ্যে। বলা চলে ক্ষতি এড়াতে এবার অনেকটাই সতর্কতা অবলম্বন করছেন তারা।

সোমবার তুরস্ক থেকে তিন হাজার ১৮৭ টন পেঁয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে চারটি জাহাজ। পেঁয়াজগুলো আমদানি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টিসিবি। চারটির মধ্যে একটি জাহাজ বহির্নোঙরে ও বাকি তিনটি বন্দর জেটিতে অবস্থান করছে।

গত বছর ভারত রফতানি বন্ধ করে দিলে বিকল্প দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করে বিএসএম গ্রুপ। তবে এবার এখন পর্যন্ত পেঁয়াজের কোনো এলসি খোলেনি খাতুনগঞ্জের অন্যতম শীর্ষ এ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত পেঁয়াজ আমদানি করি না। গত বছর বিশেষ প্রয়োজনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টন আমদানি করেছি। এতে প্রচুর লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এবার আর সেই পথে এগোয়নি।

একই কথা বলছে আরেক শীর্ষ আমদানিকারক এস আলম গ্রুপ। গত বছর শতাধিক টন পেঁয়াজ আমদানি করলেও এবার কোনো এলসি খোলেনি তারাও। তবে বাজার পরিস্থিতি না বুঝে অতিরিক্ত এলসি খোলা, সময়মতো পণ্য দেশে আনতে না পারা, আমদানি খরচ বেশি পড়ে যাওয়া এবং ভারতের হঠাৎ রফতানি শুরু করা- এ চার কারণে গত বছর ক্ষতির মুখ দেখতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, লোকসান দেওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে অধিকাংশই অনভিজ্ঞ।

সেই বছর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ খালাস করেননি শতাধিক ব্যবসায়ী। প্রায় দেড় মাস ধরে পড়ে থাকা ৯০ কোটি টাকার সেসব পেঁয়াজ শেষে নিলামে তোলে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে সেসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ব্যবসা করার আগে সার্বিক পরিস্থিতি বুঝতে হবে। বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হলে সেটি দেশে আসতে কতদিন সময় লাগবে, কী কী বাধা মোকাবিলা করতে হবে, তা আগেই উপলব্ধি করতে হবে। যারা অভিজ্ঞ তারা এটি বোঝেন বলে গতবার বাজার শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। এবারো নিয়ন্ত্রণে আসবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গ্রীষ্মকালীন ও আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসার পর আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন পর দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছিল সেই এপ্রিল মাসে, এতদিন পর্যন্ত পেঁয়াজ থাকে না। তাই পেঁয়াজ চাষিরা সব বিক্রি করে দিয়েছেন। পেঁয়াজ পচনশীল হওয়ায় এবং সেটি মজুত রাখার তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে দাম বেড়ে যায়।

অন্যদিকে, ভারতে পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা শুরু হলে বাংলাদেশে রফতানি বাড়িয়েছে মিয়ানমার। গত ১২ দিনে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় তিন হাজার ২০০ টন পেঁয়াজ ঢুকেছে বাংলাদেশে। চাহিদার তুলনায় এটি কম হলেও বাজারে পণ্যের সরবরাহ কিছুটা ঠিক রাখছে এসব চালান।

মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা ফখরুল ইসলাম বলেন, আগে মিয়ানমার থেকে সপ্তাহে চার-পাঁচ ট্রলার পেঁয়াজ আসতো। এখন পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যদিও তা গতবারের তুলনায় কম। তবে গতবার অনেকে লোকসান দেওয়ায় এবার সতর্ক রয়েছেন তারা।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, গতবার বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ এনে যারা লোকসান দিয়েছেন তাদের অনেকেই ছিলেন অনভিজ্ঞ। বাজারে চাহিদা ও মজুত বুঝে তাদের এলসি খোলা উচিত ছিল। বাজারে সংকট কতদিন থাকবে, পণ্যের মজুত কতটুকু, চাহিদা কেমন এসব বুঝে এলসি খুললে লোকসান গুনতে হতো না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.