নয় জেলায় করোনা ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা শতকের বেশি

প্রতিনিয়তই বাড়ছে করোনা ও উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। গড়ে উঠছে মৃত্যুর মিছিলের নতুন রেকর্ড। ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুসারে বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা দেয়া হলো-

রাজশাহী: রামেকের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৮ জন মারা গেছেন। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে মারা যান তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৮ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এ ছাড়া ৯ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। করোনা নেগেটিভ হয়েও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় মারা গেছেন একজন।

বরিশাল: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বরিশাল বিভাগে ৪১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজন এবং উপসর্গ নিয়ে ১০ জন মারা গেছেন। আরটিপিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ৫১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রমণ তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে বরিশাল জেলায় ১২৫ জন। এ পর্যন্ত এই জেলায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৮২৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু না হলেও আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছেন ১৩৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৬৯৮ জন।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেক) করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন করোনায় এবং ১২ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. মহিউদ্দিন খান মুন।

নেত্রকোনা: গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় নতুন করে আরো ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং করোনায় আক্তান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ১ জনের। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৩৪ জন পুরুষ এবং ২৩ জন নারী রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সেলিম মিয়া জানান, বুধবার রাত পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার মোট ২০৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নতুন আরও ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয় এবং করোনা আক্তান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯০১ জনে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬ জনে। এছাড়া শনাক্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২১৮ জন।

এছাড়া নতুন করে করোনা শনাক্তদের মধ্যে জেলার সদর উপজেলায় ২৭ জন, কলমাকান্দা উপজেলায় ৪ জন, বারহাট্টা উপজেলায় ১ জন, আটপাড়া উপজেলায় ১ জন, মদন উপজেলায় ৪ জন, কেন্দুয়া উপজেলায় ৩ জন, দুর্গাপুর উপজেলায় ৭ জন, পুর্বধলা উপজেলায় ৪ জন,মোহনগঞ্জ উপজেলায় ৫ জন এবং খালিয়াজুরী উপজেলায় ১ জন রয়েছেন।

খুলনা: করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে খুলনার পৃথক চারটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এর আগের দিনও হাসপাতাল চারটিতে ২২ জনের মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৯ জন, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৩ জন ও বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা হাসপাতালের ফোকালপার্সন ডাঃ সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কুষ্টিয়া: বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন করোনায় এবং ৭ জন উপসর্গে মারা গেছেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার।

এদিকে ৭৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ২২ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত জেলায় ৬৮ হাজার ৮৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৬৫ হাজার ৯০২ জনের। মোট শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৬৬৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৮৬ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ১৫৭ জন।

সাতক্ষীরা: গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরায় আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. মানস কুমার মন্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ৭৭ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৭৬ জন। তাদের মধ্যে করোনা পজিটিভ রয়েছে ২৬ জন। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২৫ জনে। এ দিন নতুন করে আরো ১৯১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪ হাজার ২৬৬ জনে।

বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ দিন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও তিনজন।

উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের হলুদ জোনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাকি একজন উপসর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১০৯ জনের ও জেলার বাইরে ১৬ জনের।

নোয়াখালী: গত ২৪ ঘন্টায় ৫২৯টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন আরো ১৫৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৩১.৭৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার সকালে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, গত ২৪ ঘন্টায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪৮ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.২২ শতাংশ।

সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ৪৭ জন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার অন্যান্য উপজেলাতে। বেগমগঞ্জে ৪০ জন, কোম্পানীগঞ্জে ২১ জন, সোনাইমুড়িতে ১৫ জন, কবিরহাটে ১৪ জন, চাটখিলে ১৪ জন। জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ১৬১ জন ছাড়িয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.