‘দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না’

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমির আইলগুলো তুলে দেওয়া গেলে ফরিদপুর জেলার সমান চাষযোগ্য জমি পাওয়া যেত। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না, জাতির পিতার এই লক্ষ্য নিয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৯৮ সালে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। সে সময় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রয়োজন নেই। বিদেশের কাছে পরনির্ভরশীল হওয়ার জন্য বিএনপি এই কথা বলেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকেই আমরা বর্গা চাষিদের বিনা জামানতে কৃষি ঋণ দেওয়া শুরু করি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ব্যাংক কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কৃষকদের ভর্তুকি দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা তাদের কথা শুনিনি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আমাদের পরামর্শ দিয়েছে যে ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। আমরা বলেছিলাম পৃথিবীর সব দেশ দেয়, আমরা কেনো দেবো না।

দেশের মানুষের প্রথম চাহিদা খাদ্য- এমনটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের খাদ্য দিতে হবে। এজন্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। যদি কেউ ঋণ না দেয়, তাহলে নিজেদের পয়সায় দেবো।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। কারণ গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দেইনি বলেই আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশি দেশ তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। কারণ আমার নিজের দেশের সম্পদ আমি অন্যের কাছে বিক্রি করার আগে আমার কথা ছিল আগে দেশের মানুষ তাদের চাহিদা পূরণ হবে, পঞ্চাশ বছরের মজুদ থাকবে।

তিনি বলেন, তারপর যেটা অতিরিক্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া এই দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এ কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। কিন্তু দেশ বেঁচে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটা হলো বাস্তব।

এ সময় খাদ্য উৎপাদন ও কৃষির আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষি খাতে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা কৃষিবিদদেরই অবদান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, কৃষিতে গবেষণার ফলে এখন অনেক দেশি-বিদেশি ফল, তরি-তরকারি উৎপাদন হচ্ছে। এখন ১২ মাস সব সবজি পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বিদেশি ফল এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে, এটা কৃষিবিদদেরই অবদান। এক্ষেত্রে যত দূর সম্ভব আমরা সহযোগিতা দিচ্ছি। সার-বিদ্যুৎ সব ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছি।

এর আগে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে পাট ও কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে আমাদের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.