দেশ-জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য নীরবে কাজ করছেন শেখ রেহেনা: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহেনা দেশ-জাতির কল্যাণ এবং গণতন্ত্রের জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সোমবার তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এক কঠিন এবং সংগ্রামী জীবন-যাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা। সরাসরি রাজনীতিতে না এলেও বড় বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন এ নির্মোহ এবং জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব।

তিনি আরো বলেন, সাদমাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্থ শেখ রেহেনা লন্ডনে মেট্রো ও বাসে যাতায়াত করেন। চাকুরি এবং পরিশ্রম করেই সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ রেহেনার সন্তানরা আজ আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার গঠন করেছেন। টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে বৃটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির সদস্য।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ রেহেনার ত্যাগ, প্রেরণা এবং অন্তহীন সাপোর্টে শেখ হাসিনা আজ সফল রাষ্ট্রনায়ক। রত্নাগর্ভা মা শেখ রেহেনার বড় ছেলে রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন এবং কনিষ্ঠ কন্যা আজমিকা সিদ্দিক রুপন্তি লন্ডনে গ্লোবার রিস্ক এনালাইজার (Global Risk Analyzer) হিসেবে কাজ করছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংকটে-সংগ্রামে বঙ্গমাতা বেগম মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধা, প্রেরণা ও শক্তির উৎস। ঠিক তেমনি শেখ রেহেনাও পর্দার অন্তরাল থেকে শক্তি ও সাহস যুগিয়ে যাচ্ছেন বড় বোন শেখ হাসিনাকে। বঙ্গবন্ধুর জীবনে বঙ্গমাতা যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, শেখ রেহেনাও সে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন বড় বোন শেখ হাসিনার জীবনে। প্রচার বিমুখ শেখ রেহেনা কখনো লাইম-লাইটে আসেন না।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার হৃদয়জুড়ে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অদম্য স্বপ্ন। আজ এ শুভক্ষণে আবারো বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহেনার প্রতি অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।

শেখ রেহেনার দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহেনার ৬৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের মুখোশের আড়ালে ক্ষমতার জন্য দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। যারা স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুদের সঙ্গে হাত মেলায়, তারা কখনো সার্বভৌমত্বের রক্ষক হতে পারে না।

বিএনপি নেতাদের সীমান্ত নিয়ে কথা বলা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা ভুলে গেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে শেখ হাসিনার হাত ধরেই। বিএনপি মুখে ভারত বিরোধিতা করে মুখে ফেনা তুললেও তাদের সঙ্গে নতজানু অবস্থান নিয়েছিল, যা বিএনপির সময়কালে দেশবাসী দেখেছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও কূটনৈতিক দক্ষতায় বহু বছরের পুরনো ছিটমহল বিনিময় এবং সীমান্ত সমস্যা আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। বিএনপি তাদের শাসনামলে কোনো সমস্যার সমাধান তো করতে পারেইনি, বরং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অবিশ্বাস আর আস্থাহীনতার দেয়াল তুলেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, আওয়ামী লীগের হাতেই এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ভারত সরকার কথা দিয়েছে, সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড ঘটবে না। ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.