জুমার নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম

জুমার দিন বা শুক্রবার সপ্তাহের সেরা মহিমান্বিত দিন। এদিনকে বলা হয় ‘ইয়াওমুল জুমা’। কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দ্বারা এই দিনের মর্যাদার কথা জানা যায়। জুমার অন্যতম প্রধান ইবাদতের মধ্যে একটি হলো জুমার নামাজের আগে খুতবাহ শোনা। অতঃপর নামাজ আদায় করা।

এ দিন উত্তমরূপে অজু ও গোসল করে সুন্দর পোশাকে পরিপাটি হয়ে সুগন্ধি মেখে জুমার নামাজ পড়ার মাধ্যমে আগের জুমা থেকে বর্তমান জুমা পর্যন্ত সংগঠিত সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। অথচ এখনও এমন অনেকেই আছেন, যারা জুমার নামাজ পড়ার নিয়মই জানে না। কীভাবে আদায় করবেন জুমা?

জুমার নামাজ দুই রাকাআত
জুমার নামাজের আগে দুইটি খুতবাহ মনোযোগ সহকারে শোনার পর ইমামের সঙ্গে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা। এদিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে দুই রাকাআত জুমার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানদের উপর ফরজ।

জুমার নামাজের ওয়াক্ত
জুমার দিন জোহরের ওয়াক্তে এ নামাজ পড়তে হয়। জুমা পড়ার জন্য মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতের সঙ্গে পড়তে হয়।

জুমার নামজের জন্য প্রস্তুতি

একজন মুমিন মুসলমানকে জুমার নামাজের জন্য মনে প্রাণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত। তাই আজান শোনামাত্র সব কাজ রেখে দ্রুত মসজিদের দিকে ধাবিত হওয়া জরুরি। আজান শোনার পর কোনো ঈমানদারের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা দুনিয়ার কোনো কাজেই ব্যস্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আজানের পর দুনিয়ার যে কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়ার অর্থই হচ্ছে- আল্লাহ থেকে গাফেল হয়ে খাঁটি দুনিয়াদার হয়ে যাওয়া। যা ইসলামে কোনোভাবেই বৈধ নয়। জুমার দিন দুপুরের আগে গোসল করে পরিষ্কার পোশাক পরে সুগন্ধি/তেল ব্যবহার করে আজানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে উপস্থিত হওয়া।

মসজিদে অবস্থান
মসজিদে গিয়ে বসার আগেই দুই রাকাআত দুখুলুল মসজিদ আদায় করা। অনেকেই নামাজ শুরু হওয়ার আগে দুখুলুল মসজিদ ২ রাকাআত, তাহিয়্যাতুল ওজু ২ রাকাআত, কাবলাল জুমআ ৪ রাকাআত নামাজ পড়ে থাকেন। সুযোগ থাকলে খুতবাহর আগে এ নামাজগুলো পড়ে নেয়া। তবে তবে এই নামাজগুলো জুমার নামাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

খুতবাহ শোনা
ইমাম মিম্বারে ওঠলে মনোযোগের সঙ্গে খুতবাহ শোনা। ইমাম দুইটি খুতবাহ দেবেন। প্রথম খুতবায় নসিহত দেবেন। দ্বিতীয় খুতবার সময় অনেক দোয়া করা হয়। এ সময় ইমামের দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমিন বলা।

জুমার নামাজ পড়া
অতঃপর জুমআর নামাজ পড়ার জন্য মুয়াজ্জিন খুতবা দেওয়া শুরু করলে নামাজের জন্য দাঁড়ানো। অনেকেই খুতবাহ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইমাম মিম্বার থেকে নামার আগেই নামাজের জন্য দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেন। এমনটি কোনোভাবেই করা যাবে না। এটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।

এভাবে ইমামের সঙ্গে দৃঢ়স্থিরভাবে জুমার দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা। জুমার নামাজের সালাম ফেরানোর পর নিয়মিত তাসহিব ও আমল করা। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা না করা। বরং মসজিদে নামাজে অংশগ্রহণকারী অন্য কারো ইবাদত-বন্দেগিতে সমস্যা হয় এমন আওয়াজ ও কাজ না করা।

সঠিক নিয়মে নামাজ পড়ার ফজিলত
সুন্নাতের অনুসরণে জুমা আদায়ের সাওয়াব ও ফজিলত অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে- জুমার দিন যে ব্যক্তি গোসল করে প্রথম ভাগে পায়ে হেঁটে মসজিদে যায়, ইমামের খুব কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবাহ শোনে, কোনো কিছু নিয়ে খেল-তামাশা করে না, ওই ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন এবং সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সাওয়াব। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, জুমার দিনের সুন্নাত কাজগুলো সুন্দরভাবে সম্পাদন করা জরুরি। আর তাতে রয়েছে রহমত ও বরকত। এ দিন আসর থেকে মাগরিবের ইবাদত ও মসজিদে অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা যথাযথভাবে আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা ইবাদতকারীর দোয়া কবুল করে নেন।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে জুমার নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। জুমার দিনের ফজিলত ও মর্যাদা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.