জাফরুল্লাহ এখন বিএনপির গলার কাঁটা

তারেক রহমানকে বিএনপির দায়িত্ব দেয়াটা ঠিক হয়নি। জাইমা রহমানকে দেশে আনা উচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বয়স হয়েছে, তাদের কোমরে শক্তি নেই। বিএনপি মেরুদণ্ডহীন রাজনৈতিক দল। এ দলের মহাসচিব একজন পুতুল মহাসচিব।

বিএনপি সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এমন নানা মন্তব্যে বিরক্তে ছিল দলের শীর্ষ নেতারা। তবে সাহস করে তারা জাফরুল্লাহর বিরোধীতা করতে পারছিল না।

তবে সম্প্রতি তারেক রহমানকে নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা প্রশ্ন করেন, আপনি বিএনপির কে? বিএনপি নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলেন?

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা ও অদক্ষতার কারণে বিএনপির হয়ে কথা বলার সুযোগ পান জাফরুল্লাহ। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলদের ব্যর্থতার কারণেই তিনি অনেকটা বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হন। শুরুর দিকে তার বক্তব্যে নানামুখী হলেও ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বিএনপিকেই আক্রমণ করা শুরু করেন তিনি।

ভরসা করে দলের পক্ষে কথা বলার সুযোগ করে দিলেও এখন মির্জা ফখরুলদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছেন জফরুল্লাহ। কিন্তু সৌজন্যবোধ ও সিনিয়রিটির খাতিরে তার কটু কথার প্রতিবাদ করতে পারছেন না বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

বর্তমানে জাফরুল্লাহর কথা-বার্তায় তারা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে তিনি এখন বিভেদের বিষ ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ দলের অনেক নেতার।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের অযোগ্যতা ও নিষ্ক্রিয়তা ঢাকতে জাফরুল্লাহকে নাড়তে চান না দলের সিনিয়র নেতারা, কারণ এতে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে বলে ভয় তাদের। জাফরুল্লাহর লাগামহীন বক্তব্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন মির্জা ফখরুলরা।

এদিকে জাফরুল্লাহর এসব লাগামহীন বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, জাফরুল্লাহকে নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। দলের ভালো করার চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছেন তিনি। অনেক সময় দাওয়াত না দিলেও অযাচিতভাবেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিএনপিকে দোষারোপ করে নেতিবাচক কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাফরুল্লাহকে এখনই থামানো উচিত। কিন্তু তার খুঁটির জোর সম্ভবত বেশি। যে কারণে তাকে নাড়াতে স্বয়ং খালেদা জিয়া, এমনকি তারেকও ভয় পান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.