চীনের হাইপারসোনিক মিসাইল: কী ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

সম্প্রতি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে আলোচনা। এতে উদ্বেগে পড়েছে বিশ্ব মোড়লরাও।

চীন সম্প্রতি দুবার মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। প্রথমবারের পরীক্ষায় লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ২৪ মাইল দূর দিয়ে চলে যায় রকেটটি। ফলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয় সেটি। লন্ডনভিত্তিক সংবাদপত্র ফাইনানশিয়াল টাইমস প্রথম এই সংবাদ প্রকাশ করে।

এদিকে চীনের এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার পর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আমেরিকার কিছু রাজনীতিক ও ভাষ্যকার। তবে এই পরীক্ষার ব্যাপারটি অস্বীকার করেছে চীন। দেশটি জানিয়েছে, তারা পুনর্ব্যবহারযোগ্য একটি মহাকাশযান পরীক্ষা করছিল।

চীনের এই অস্বীকৃতির বিষয়টিকে অস্পষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরেতে মিডলবেরি ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশানাল স্টাডিসে পূর্ব এশিয়ায় অস্ত্র বিস্তার রোধ বিষয়ক গবেষণার পরিচালক জেফ্রি লিউইস। কারণ তিনি বলছেন আমেরিকান কর্মকর্তারাও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে এই পরীক্ষার কথা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও মনে করছেন, চীন মহাকাশ কক্ষপথে পরীক্ষা চালিয়েছে, এটি ‘কারিগরি সক্ষমতায় এবং কৌশলগত কারণে চীনের পক্ষে করা খুবই সহজ।’

এদিকে ফিলাডেলফিয়ায় ফরেন পলিসি ইন্সটিটিউটের গবেষণা পরিচালক অ্যারন স্টেইন মনে করেন, ফাইনানশিয়াল টাইমসের খবর এবং চীনের অস্বীকৃতি দুটোই সত্য হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য একটি মহাকাশযানও একটি হাইপারসোনিক গ্লাইডার। গ্লাইডার জাতীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ফবস ব্যবহার করলে সেটা একটা পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানের মতোই কাজ করবে। কাজেই দুটি বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা খুবই নগণ্য।’

হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই ধারণাটি নিয়ে শীতল যুদ্ধের সময় কাজ করছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, সেই প্রযুক্তিই পুনরুদ্ধার করেছে চীন। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে অপ্রত্যাশিত দিক থেকে লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে।

এ ব্যাপারে অ্যারন স্টেইন বলেন, ‘পরমাণু শক্তিধর বড় দেশগুলোর বেশিরভাগই এখন হাইপারসোনিক মিসাইল ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে।’

অ্যারন স্টেইনের মতে, ‘চীন ও রাশিয়া মনে করে হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র, মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পরাজিত করার নিশ্চিত একটা প্রযুক্তি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়, সেইসব লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে, যেগুলো পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা

Leave A Reply

Your email address will not be published.