চিরচেনা রূপে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল দেশের সব পর্যটনকেন্দ্র। সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এতে নেমেছে পর্যটকের ঢল।

দীর্ঘদিন পর লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ভিড় করছেন উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটকরা সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত উপভোগসহ কুয়াকাটার লেবুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চর, বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার ঐতিহাসিক কুয়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন তাঁতপল্লীসহ দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সমুদ্রে গোসল করা ও সৈকতে আনন্দ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে কুয়াকাটায় পাড়ি জমাচ্ছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।

এদিকে, করোনা সংক্রমণ রোধে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।

টুরিস্ট পুলিশ বলছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা সজাগ রয়েছি। সমুদ্রে নামার ব্যাপারে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাইকিং করে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, লোকজন সীমিত পরিসরে আসতে শুরু করেছে। ৩০ আগস্টের পর থেকে পর্যটক আরো বেড়ে যাবে। আশা করছি, করোনায় কোনো সমস্যা হবে না। এখনো হোটেল মালিকরা পুরোদমে ব্যবসা শুরু করতে পারেনি। পর্যটক বাড়লে ব্যবসায়ে গতি আসবে।

দর্শনার্থী মাসুম বলেন, বিধিনিষেধে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ কারণে অনেকদিন কোথাও যাইনি। এখন সুযোগ পেয়ে বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটায় বেড়াতে এলাম।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কুয়াকাটায় দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বক্ষণ তৎপর রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.