‘চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি নেই, ব্যবস্থাপনার অভাবে যেন অর্জন ব্যর্থ না হয়’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফলতার সঙ্গে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সর্বাত্মক প্রয়াস গ্রহণ করেছেন এবং এ পর্যন্ত অতিমারির বিপর্যয় সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন। আমাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে কোনো কিছুর ঘাটতি নেই। ব্যবস্থাপনার অভাবে যেন সরকারের অর্জন ব্যর্থ না হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে চলমান লড়াইয়ে সবার সম্মিলিত উদ্যোগে অপরিহার্য। করোনা সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতির অগ্রগতিতে চিকিৎসক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করলে সংক্রমিত হওয়ার আগে প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি হবে।’

নেত্রকোনা জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। আজ বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সরকারি কার্যক্রম সুসমন্বয়ের লক্ষ্যে নেত্রকোনা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানার উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, হাবিবা রহমান খান শেফালী, নেত্রকোনা সদর পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান, স্থানীয় সিভিল সার্জন, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, পুলিশ সুপার, বিজিবির অপারেশন কমান্ডার, বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুষ্ঠানে নেত্রকোণার সার্বিক করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী করোনা সংক্রমণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্থানীয়ভাবে স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ধরন প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোতে ডেলটা ভ্যারিয়্যান্ট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একসময় সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, করোনা শহরের মানুষের রোগ। কিন্তু, এখন পরিস্থিতি উল্টো। করোনাভাইরাস গ্রামে দারুণ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।’

নেত্রকোনা সদরে করোনা রোগীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অক্সিজেন, সিসিইউ, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরসহ করোনা চিকিৎসার যেসব উপকরণের ঘাটতি আছে তা যথাসময়ে ব্যবস্থা করতে না পারলে বিপর্যয় থেকে এই জনপদকে রক্ষা করা কঠিন হবে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সর্বাত্মক প্রয়াস গ্রহণ করেছেন এবং এ পর্যন্ত অতিমারির বিপর্যয় সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন। আমাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে কোনো কিছুর ঘাটতি নেই। ব্যবস্থাপনার অভাবে যেন সরকারের অর্জন ব্যর্থ না হয়।

জেলার সার্বিক করোনা পরিস্থিতি সভায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে চলতি লকডাউন কঠোরভাবে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.