গান্ধীদের মতো শেখ হাসিনা বিশেষণের ঊর্ধ্বে

শেখ হাসিনার নামের পাশে কোনো বিশেষণের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যারা ইতিহাসের বাধাগুলো অতিক্রম করে উঁচুতে উঠে যায় তাদের নামের সাথে কোনো বিশেষণ দরকার হয় না। গান্ধী বললে এখন মোহন চাঁদ পরম চাঁদ গান্ধী বোঝায়, তেমনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সব বিশেষণের ঊর্ধ্বে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের অনলাইন আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ভাষাসৈনিক আব্দুল গাফফার।

সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য দিন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় বছর পর এদিন শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন।

আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে আজকের বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আমরা পেতাম না। হয়তো সেখানে আমরা পেতাম মধ্যপ্রাচ্যের আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো প্রায় একটি ধ্বংসের মুখে যাওয়া দেশ।’

এই ধ্বংস থেকে শেখ হাসিনাই দেশকে রক্ষা করেছে উল্লেখ করে আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন শেখ হাসিনা। এর চেয়ে বড় কথা শেখ হাসিনার সম্পর্কে নেই। আমি মনে করি শেখ হাসিনা একজন ইতিহাস।’

গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও সংরক্ষণকারী। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি ঐতিহাসিক। এটি ইতিহাসে খুব ভালোভাবে লেখা থাকবে।’ এই দিনটির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব নিয়ে গবেষকদের লেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ জীবন কামনা করে ভাষাসৈনিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী আশা করেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অতীতে যেভাবে মহামারি, প্লাবন, ঝড়- এসব সংকটের মুখে জাতিকে রক্ষা করেছেন এবং ভয়াবহ তথাকথিত ইসলামিক সন্ত্রাসীদের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন, এবারও করোনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত ঐক্য প্রচেষ্টা নিয়ে দেশকে বাঁচাতে পারবেন।’

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের একজন ইতিহাস-পুরুষ বলে বর্ণনা করেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী। ভবিষতে তার নাম চিরদিনের জন্য ইতিহাসে খোদাই করা থাকবে। মানুষ তাকে ভাববে, শ্রদ্ধা করবে।

শেখ হাসিনার নামের পাশে কোনো বিশেষণের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন এই আন্তর্জাতিক কলামিস্ট। বলেন, ‘যারা ইতিহাসের বাধাগুলো অতিক্রম করে উচুতে উঠে যায় তাদের নামের সাথে কোনো বিশেষণ দরকার হয় না। গান্ধী বললে এখন মোহন চাঁদ পরম চাঁদ গান্ধী, ট্যাগর বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শেখ সাহেব বললে সারা দেশ ও বিদেশের মানুষ শেখ মুজিবুর রহমানকে বোঝে। তেমনি শেখ হাসিনা সব বিশেষণের উর্ধ্বে। শুধু হাসিনা নামেই সারা বিশ্বে পরিচিত।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন তার বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ঘাতক-দালালদের বিচার হয়েছে। আর তাতে জাতি একটি কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছে।

শেখ হাসিনা দেশে আসার ফলে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেটা চেয়েছিলেন দলটি মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করছে। শেখ হাসিনা আছেন বলেই নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা সে স্বপ্ন ভুলতে বসেছিলাম।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন উন্নত স্থিতিশীল, অসাম্প্রদায়িক একটি বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই আজ তা অর্জন হয়েছে। বাংলাদেশ গত ১২ বছরে যে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে, তার মূলে রয়েছেন জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

অনুষ্ঠানের শেষে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানটির কারিগরি সহযোগিতায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া ও ইঞ্জিনিয়ার হেদায়েতুল ইসলাম শেলী।

আরও পড়ুন
Loading...