গর্ভাবস্থায় যেভাবে ‘মর্নিং সিকনেস’ কাটানো হয়

বমিভাব ও বমি হওয়া, মাথা ঘোরানো- এই ধরনের সাধারণ সমস্যাগুলো গর্ভাধারণের প্রথম তিনমাসের মতো ভোগায়।
ঘুমের সমস্যা, পা ফোলা, চলাফেরার প্রতিবন্ধকতা, হরমোনজনীত সমস্যা ইত্যাদি নানান অস্বস্তি ছাড়াও ‘মর্নিং সিকনেস’য়ে ভুগতে হয়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের শেষের দিক থেকে এই ভোগান্তির শুরু হয়। গর্ভবতী অবস্থায় প্রায় ৫০ শতাংশ নারীই ‘মনিং সিকনেস’য়ের শিকার হন, যা অন্যান্য সকল অস্বস্তির মতোই স্বাভাবিক। তবে অনবরত বমি, হঠাৎ অনেকটা ওজন কমে যাওয়া কিংবা পানিশূন্যতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে দ্রুত।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়বসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হলো ‘মর্নিং সিকনেস’য়ের কারণ এবং সেটা মোকাবিলা করার উপায়।

কেন হয়?
গর্ভাবস্থায় বমিভাব ও বমি হতেই পারে। যার কারণ হল ‘ইস্ট্রোজেন’ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া এবং ঘ্রাণের প্রতি তীব্র সংবেদনশীলতা। অস্বস্তির মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকলে ঘরোয়া প্রতিকার আপনার জন্য যথেষ্ট। তবে তীব্র সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনায় যেতে দেরি করা চলবে না, প্রয়োজনে ওষুধ খেতে হবে।

ঘরোয়া প্রতিকার
গর্ভাবস্থায় প্রতিটি নারীর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য হল পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। রাতে নির্ভেজাল ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে দিনেও সামান্য ঘুমাতে হবে। তবে খাওয়ার ঠিক পরপরই ঘুমানো চলবে না। কারণ তাতে বমিভাব বাড়বে।
– এ সময় নিজের শরীরের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গর্ভের সন্তানের জন্যও পুষ্টি উপাদানের যোগান দিতে হবে মাকে। স্বভাবতই খাওয়ার পরিমাণ বাড়বে, সঙ্গে বমিভাবও। আবার একেবারে অভুক্ত থাকলেও বমিভাব বাড়বে। তাই তিনবেলা নিয়ম করে পেট পুরে না খেয়ে অল্প অল্প করে বার বার খেতে হবে। শোয়ার ঘরে হাতের কাছে বিস্কুট, রুটি, সিরিয়াল ইত্যাদি রাখতে পারেন। ঘুম থেকে উঠেই কিছু খেয়ে নিয়ে বমিভাব ও অস্বস্তি কমবে।

– পেটের গোলমাল ও বমিভাব সামলাতে আদা অত্যন্ত উপকারী। কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। আদা-চা পান করতে পারেন। এছাড়াও বাজারে আদার স্বাদের চকলেট পাওয়া যায়, বমিভাব এড়াতে সেগুলোও মুখে রাখতে পারেন।

– কিছু খাবার বাদও দিতে হবে এই সময়। বেশি চর্বিযুক্ত, তেল চপচপে কিংবা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যেসব খাবার পেট ফোলাভাব সৃষ্টি করে সেগুলো থেকেও দুরে থাকতে হবে। নতুন ধরনের খাবার চেখে দেখাও এ সময় বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। অতিরিক্ত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট কিংবা লবণাক্ত খাবার অনেক নারীর মাঝে বমিভাব সৃষ্টি করে। আবার খাবারের সঙ্গে কোমল পানীয় পান করা থেকেও বিরত থাকা উচিত। কারণ এই দুটির মিশ্রণেও বমিভাব হতে পারে।

– কড়া গন্ধ থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশেষ করে সিগারেট, কড়া সুগন্ধি ও অন্যান্য যে কোনো গন্ধ যা আপনার বমিভাব উদ্রেক করে। রান্নার কাজের দায়িত্ব অন্য কারও ঘাড়ে দিতে পারলে ভালো। তা সম্ভব না হলে রান্নাঘরের জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করে রান্না করতে হবে।

– গর্ভবস্থায় প্রয়োজনীয় ‘প্রি-নাটাল ভিটামিন’য়ের মধ্যে থাকা লৌহ বমিভাব বাড়ায়। তাই বলে তা সেবন বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। সমস্যা সামাল দিতে ভিটামিন সকালে না খেয়ে, রাতে ঘুমানোর আগে খেতে পারেন। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করতে হবে।
– কিছু গন্ধ বমিভাব ডেকে আনলেও কিছু গন্ধ আবার ভালোও লাগবে। পুদিনা পাতা, লেবু, কমলা ইত্যাদি এমন গন্ধের মধ্যে অন্যতম। এগুলো হাতের কাছে রাখতে পারেন। আবার এমন গন্ধের তেলে তুলার বল ভিজিয়ে রেখে সেটাও ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন
Loading...