খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাচ্ছেন না রিজভী

দীর্ঘ চার মাস পরে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে আবারো দলীয় রাজনীতির মাঠে সরব হয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। করোনা থেকে অনেক আগে সুস্থ হলেও এতদিন বাধ্য হয়ে ঘরবন্দী ছিলেন তিনি। এবার বের হয়ে শুধু রাজনীতি শুরু নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের শেষ দেখে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

এরপরই অজানা কারণে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাসভবনের দরজা বন্ধ হয়ে যায় রিজভীর জন্য। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিতে রিজভী-ফখরুল দ্বন্দ্ব এখন হিমালয় চূড়া ছুঁয়েছে। বিষয়টি এমন যে, এখন কেউ কাউকে সহ্যই করতে পারছেন না।

জানা গেছে, রিজভীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের অনুসারী ইমরান সালেহ প্রিন্সকে বসিয়েছেন ফখরুল। এরপর রিজভীকে গৃহবন্দী করে রাখেন।

তবে নানা কৌশলে ঘরের বাইরে বের হয়েছেন রিজভী। আর মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্যে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। এতেই মির্জা ফখরুল করোনার দোহাই দিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রিজভীর সাক্ষাতের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন।

রুহুল কবির রিজভীর অনুসারী এক নেতা বলেন, রিজভী সাহেবকে অনেক দিন ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। এখন ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতেও দেয়া হচ্ছে না। তবে বেশি দিন তাকে আটকে রাখতে পারবেন না।

রিজভীকে কেন ফিরোজায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না- জানতে চাইলে খালেদার ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, বিষয়টা সে রকম নয়। ম্যাডাম অসুস্থ। এ অবস্থায় আমরা ঝুঁকি নিতে চাই না। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে সবাইকে ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্য বলেন, আমরা এমনিতেই বিপদে। দল একযুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে। আমাদের একতাবদ্ধ হওয়া দরকার। তা না করে রিজভী-ফখরুল সাহেবরা যা করছেন, সেটা দায়িত্বহীনতা। তাদের এসব ছেলেমানুষি বাদ দিয়ে জনগণের জন্য কিছু করার আহ্বান জানাই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.