কোরবানির মাংস বন্টনে ইসলামের নির্দেশনা

আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় আত্মোৎসর্গ করাকে বলা হয় কোরবানি। তাৎপর্যমণ্ডিত আমল এটি। একজন স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম যদি ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন, তাদের পক্ষ থেকে একটি কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক। ইসলামে ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত হচ্ছে কোরবানি।

ত্যাগের এই ঈদে কোরবানির মাংস ধর্মীয় নিয়মে বন্টন জরুরি বিষয়। নয়তো এই ঈদের মাহাত্মকে খর্ব করা হবে। এ কাজটি সঠিকভাবে না সম্পন্ন করলে কোরবানি কবুলের শর্ত পূরণ হবে না। তাই কোরবানির মাংস বন্টনে সঠিক নিয়ম মানা আবশ্যক।

তিনভাগ করতে হবে 
> কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করতে হয়। এ কথা সবাই জানেন। এর এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে এবং এক ভাগ নিজে খাওয়ার জন্য রাখতে হয়। কাজেই বেশি মাংসের জন্যে বড় আকারের পশু কেনা ভালো। নিজের কাছে এক ভাগের বেশি রাখা উচিত নয়। গরিব ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে সমানভাগে ভাগ করা ভালো। তবে অবস্থাসম্পন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে না দিয়ে তা গরীব আত্মীয়দের দেয়া বেশি ভালো।

> মাংস পরিমাপের ক্ষেত্রে দাড়িপাল্লা ব্যবহার করুন। তাহলে ভাগ যে সমান হলো তা নিশ্চিত করা যাবে। এই বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সুরা আল হজের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্র লোকদের খাওয়াও। সেই সঙ্গে কোরবানির মাংস খাওয়ানো নিয়ে সুরা আল হজের ৩৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং আহার করাও এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে এবং এমন দরিদ্র যে ভিক্ষা করে না। এভাবে সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

> সবচেয়ে ভালো পশুর প্রতিটা অংশের মাংস, কলিজা ইত্যাদি একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলা। তারপর তা সমান তিনভাগে ভাগ করা। তবে কোরবানির মাংস তিন ভাগে বন্টন মুস্তাহাব। আপনি চাইলে পুরোটাই বিলিয়ে দিতে পারেন। চাইলে পুরোটাই নিজের কাছে রাখা দোষের নয়। তবে গরীব, মিসকিন, আত্মীয়দের হক আছে এই মাংসে। কাজেই বিলিয়ে দিলেই মানসিক শান্তি মেলে।

> শুধু মাংস নয়, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির টাকাতেও হক আছে গরীর মিসকিনদের। কাজেই আপনি এটা বিক্রি করে সেই টাকা দান করতে পারেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.