কমলাপুর স্টেশন ফাঁকা, গাদাগাদি কমিউটার ট্রেনে

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই যে যেভাবে পারছে ঢাকা ছাড়ছে। যাত্রী পদচারণায় মুখর বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলো। তবে ভিন্ন চিত্র ছিল কমলাপুর রেলস্টেশনে। অন্যান্য বছর ঈদের আগের ঠিক এই সময়ে যাত্রীদের ভিড় ও হুড়োহুড়ি থাকে স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফরমে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়ি ফেরার আগের চিরচেনা সেই চিত্র এখন আর নেই কমলাপুরে।

রোববার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টায় কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাট ফরমগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। এই সময়ে যে পরিমাণ যাত্রী থাকার কথা তার অর্ধেকও যেন নেই স্টেশনে। সিলেটগামী জয়েন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী হেলালউদ্দিন বলেন, পরিবার নিয়ে যাচ্ছি শ্রীমঙ্গল। তবে যাত্রী কম থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌছতে পারব।কয়েকদিন আগেই অনলাইনে টিকিট কেটেছিলাম। ভৈরবগামী এক যাত্রী জানান, আগের মতো হুড়োহুড়ি না থাকায় পরিবেশ খুবই ভালো লাগছে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার জানান, করোনাভাইরাসের কারণে অর্ধেক আসন খালি রেখে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেয়ায় যাত্রী সংখ্যা অনেকটাই কম। তাছাড়া অনলাইনে টিকিট বিক্রি হওয়ায় বিনা টিকেটে কিংবা স্ট্যান্ডিং টিকেটে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারায় স্টেশন অনেকটা ফাঁকা। প্রতিটি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে বলেও জানান স্টেশন ম্যানেজার।

তবে কমিউটার ট্রেনগুলোতে মানা হচ্ছে না কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি। গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে যাত্রীরা। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কমলাপুর স্টেশনে এসে পৌছায় তিতাস কমিউটার ট্রেন। এতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায় যাত্রীদের। অফিসগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ট্রেনটিতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় আসা তিতাস কমিউটারের যাত্রী খালেদ মোছান্নাহ জানান, যে যেভাবে পারছে গাদাগাদি করে ট্রেনে উঠেছে। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। দুই সিটে একজন বসার কথা থাকলেও দুই সিটে বসেছে ৩ জন। তাছাড়া আবার গায়ের উপর এসেও দাঁড়িয়ে ছিল যাত্রীরা। এই ট্রেনের অন্য যাত্রী সাজিদুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট আসনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী যাত্রী উঠে তিতাস ট্রেনে। দাঁড়িয়ে ঝুলে এসেছেন অনেকে।

করোনা ঝুঁকির কারণে শতভাগ টিকিট দেয়া হচ্ছে অনলাইনে। কাউন্টার থেকে বিক্রি হচ্ছে না কোনো টিকিট। অনলাইনে টিকিট না পাওয়ার অভিযোগও ছিল অনেক যাত্রীর। অন্যান্য গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হলেও ট্রেনে রাখা হচ্ছে আগের ভাড়াই। তাই কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারগুলোতে ছিল যাত্রীদের দীর্ঘলাইন। সেখানেও কাউকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।

রোববার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, প্ল্যাটফরমে যাত্রী প্রবেশে ছিল অনেক কড়াকড়ি। টিকিট ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মাস্ক ব্যবহার করে স্টেশনে প্রবেশের অনুরোধ জানানো হচ্ছে যাত্রীদের।

Leave A Reply

Your email address will not be published.