কখন বুঝবেন ব্যায়াম বিপদ ডেকে আনছে

ব্যায়ম করলে স্বাস্থ্য ভালো থাবে এই কথা যেমন সত্যি, ঠিক তেমনি অতিরিক্ত ব্যায়ম করাও যে ক্ষতিকর তাও সত্যি। নিশ্চয়ই জানেন, ব্যায়ম করতে গেলে শরীর ব্যথা করে। এক্ষেত্রে অনেকেরই মোট ব্যথা নিয়েই ব্যায়াম করা। নইলে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তাইতো ব্যথা সহ্য করেই অনেকে ব্যায়াম করেন। যা মোটেও সঠিক নয়। ‘নো পেইন, নো গেইন’, ব্যায়ামের অনুপ্রেরণা পেয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ব্যায়াম করাটা স্বাভাবিক মনে হলেও সবসময় তা ঠিক নয়।

’আমেরিকান কাউন্সিল অফ এক্সারসাইজ’য়ের জ্যেষ্ঠ পরামর্শদাতা এবং স্যান ডিয়েগোর মিরামার কলেজের শরীরচর্চা-বিদ্যার সহকারী অধ্যাপক জেসিকা ম্যাথিউস বলেন, এটা সত্য যে, ব্যায়ামের পর শরীরে অল্প ব্যথা হওয়া ভালো। এই ব্যথার মানে হলো আপনার মাংসপেশি শক্তিশালী হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করেন, কিছু নির্দিষ্ট ব্যথা জটিলতার লক্ষণ, যেমন অতিরিক্ত ব্যায়ামের ব্যথা। সাধারণ ব্যথা আর জটিলতা লক্ষণ সূচক ব্যথার পার্থক্য চিহ্নিত করাটাই মূল কথা।

উপায় জানিয়েছে শরীরচর্চাবিষয়ক এক ওয়েবসাইট। চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত-

ব্যায়াম তিন দিন আগে, ব্যথা আছে আজও

ব্যায়াম শুরু করার প্রথম কয়েকদিন ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। এর কারণ হলো মাংসপেশির ছোট টিস্যু ছিড়ে যাওয়া। এই ছেড়া অংশগুলো যখন পুনর্গঠিত হয় তখন পেশি আরও শক্তিশালী হয়। তবে তা একদুদিনের মধ্যেই সেরে যাওয়া উচিট। আরও বেশি সময় ব্যথা থাকলে বুঝতে হবে আপনি মাংসপেশির উপর বেশি চাপ দিয়ে ফেলেছেন।

ব্যথা সেরে যাওয়ার পর ব্যায়ামাগারে যেতে হবে। কারণ এই অবস্থায় ব্যায়াম করলে ব্যায়াম একপেশে হতে পারে। যার কারণে পরে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

নির্দিষ্ট ব্যায়ামে ব্যথা পাওয়া

এটিও বিপদের পূর্বাভাস। ব্যথা যদি তীব্র হয় তবে অর্থোপেডিক স্পেশালিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আর সহনশীল ব্যথা হলে ব্যয়ামের আগে শরীরকে ব্যয়ামের জন্য প্রস্তুত করে নেয়ার প্রতি সতর্ক হতে হবে।

ম্যাকআর্থি বলেন, বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে ‘ওয়ার্ম-আপ’ আর ‘স্ট্রেচিং’য়ের প্রতি। আর ব্যয়ামের ফাঁকে পানি পান করতে হবে। অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিতে যাবেন না। ভার উত্তোলনের ব্যায়াম কম ওজন দিয়ে শুরু করতে হবে। আর প্রশিক্ষকের নির্দেশনা সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।

মাংসপেশিতে কাঁপুনি

ম্যাথিউস বলেন, ব্যায়ামের সময় মাংসপেশির সামান্য কাঁপুনি সমস্যা নয়। তবে থরথর করে কাঁপতে থাকলে এবং শক্তি কমে যেতে থাকলে তা পেশির ক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ। এই অবস্থায় জোর করে ব্যায়াম করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় ব্যায়ামের স্বাভাবিক পারদর্শীতা থাকে না। এসময় ব্যায়াম করলে পেশি ছিড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আকস্মিক ব্যথা

ধীর ও ক্রমবর্ধনশীল ব্যথা স্বাভাবিক। এর মানে হলো ব্যায়ামটি আপনার জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা জটিলতার লক্ষণ।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থোপেডিক সার্জন মোরিয়া ম্যাক্কার্থি বলেন, এক্ষেত্রেও জোর করে নির্দিষ্ট ব্যায়াম করা যাবে না। কারণ এতে পেশি ও হাড়ের জোড়ায় আঘাত লাগতে পারে।

জগিংয়ের পর পা ফোলা

জগিং বা হাঁটাহাঁটির পর পায়ের পাতা বা হাঁটুতে ফোলা ভাব, পানি আসা কিংবা লালচেভাব দেখা দেয়া এবং নিয়মিত ব্যথা অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটির উপসর্গ।

ম্যাক্কার্থি বলেন, প্রথম কয়েক দিন রয়ে সয়ে। আপনার আরও বেশি সময় নিয়ে ‘ওয়ার্মআপ’ ও ‘স্ট্রেচিং’ করতে হবে।

এরপরও ব্যথা হলে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুন
Loading...