এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিকল্প; উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের

করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালে অটোপাস পায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ পরীক্ষার্থী। এবার অটোপাস থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ দিকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করে দুবার পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা আর হচ্ছে না।

কখন পরীক্ষা হবে সেসব নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতি ঘিরে। তাই করোনার বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত পরীক্ষা বাদে বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করার বিষয়ে চিন্তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, করোনার কারণে আমরা কবে নাগাদ শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরতে পারি সেটির কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আপাতত পরীক্ষা বাদে বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়।

আর পরীক্ষা নিয়ে চরম উদ্বেগে সময় কাটাচ্ছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। নরসিংদী সরকারি কলেজের এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব আহমেদ বলেন, গত বছরের অটোপাস হলেও এবার আর এ সুযোগ থাকছে না এটা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপর নির্দেশনা এলো শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার। আমরাও সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু ১ জুলাই থেকে সবই এলেমেলো। শুরু হলো কঠোর লকডাউন। এখন শুনছি পরীক্ষার বিকল্প কিছু ভাবছে সরকার। এ নিয়ে আমাদের উদ্বেগ বাড়ছে। আমাদের অভিভাবকদের মনেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

এদিকে ২০১৯ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা অংশ নেয় এবং তাদের মধ্যে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন পাস করে। সেই হিসাবে এ বছর প্রায় সেই সাড়ে ১৭ লাখ শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা।

এর পরিসংখ্যান আরো পরিষ্কার করলেন ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসএম আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের বছরগুলোতে অনেকে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, এবার তারা অটোপাসের আশায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।

এ ছাড়া গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বলেন, কেভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করেই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি। শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সবাইকে বলব উদ্বিগ্ন হবেন না। বৈশ্বিক সংকট চলছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব ক্ষেত্রে সেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম আমিরুল ইসলাম বলেন, পাঠ্যসূচি অনুযায়ী ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জাতীয় পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখনো পরামর্শক কমিটি গঠিত হয়নি, আবার বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে সেটা আমাদের জানানো হয়নি। আমরাও একই কথা বলব, যদি পরীক্ষা না নেওয়া যায়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা আসবে। তবে, তার জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.