আলোকচিত্রী লুৎফর রহমান বীনু আর নেই

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী, ফটোসাংবাদিক, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বীনু মারা গেছেন। আজ সোমবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিএনপির চেয়ারপারসনের গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

শায়রুল কবির খান বলেন, লুৎফর রহমান বীনু আজ হঠাৎ হৃৎপিণ্ডের রক্তক্ষরণে ইবনে সিনা হাসপাতালে দুপুর ১২টায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

লুৎফর রহমান বীনুর মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক জানিয়েছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে জ্যেষ্ঠ এ ফটোসাংবাদিকের মরদেহ খিলগাঁওয়ে তাঁর নিজ বাসায় নেওয়া হয়েছে।

লুৎফর রহমান বীনুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন। এক শোকবার্তায় প্রয়াত এ আলোকচিত্রীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে সংগঠনটি। সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ ও স্মৃতিচারণ করে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করছেন তাঁর সহযাত্রী ও বন্ধুরা।

আলোকচিত্রী লুৎফর রহমান বীনু ১৯৬৯ সাল থেকে ফটোগ্রাফি শুরু করেন। অনেক বিখ্যাত ছবি তাঁর তোলা। নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও প্রচুর ছবি তাঁরই তোলা। দীর্ঘদিন তিনি কাজ করেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। তাঁর আলোকচিত্রের প্রদর্শনী হয়েছে বেশ কয়েক বার। এর বাইরে আলোকচিত্র নিয়ে তিনি লিখেছেন বই।

লুৎফর রহমান বীনুর আলোকচিত্র নিয়ে প্রকাশিত বই ‘এ চলার শেষ নেই’ আলোকচিত্রের একটি সমৃদ্ধ আকর গ্রন্থ। তাঁর আলোকচিত্রে উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়ের ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

ওই বই থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লুৎফর রহমান বীনুর জন্ম ১৯৫৫ সালে ঢাকায়। ১৯৬৯ সালে আলোকচিত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৬ সালে পেশাগত জীবন শুরু করেন দৈনিক কিষাণে। তবে এক যুগেরও বেশি সময় দৈনিক সংবাদে কাজ করার মাধ্যমে বীনু একজন আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেন। দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক দেশ, মর্নিং পোস্ট, মর্নিং সান এবং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকাতেও তিনি কাজ করেছেন।

বীনুর তোলা সংবাদচিত্র ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ, দ্য টেলিগ্রাফ, ফ্রন্টলাইন, দ্য হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য স্টেটসম্যানে প্রকাশ হয়েছে। তিনি ১৯৮৮ সালে জাতীয় জাদুঘরের স্বাধীনতা দিবস প্রদর্শনীর বিশেষ পুরস্কার এবং ১৯৮৯ সালে পরিবেশ সাংবাদিকতার ওপর এফইজেবি/ এসকাপ পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৮৮ সালে এএমআইসি স্কলারশিপ পেয়ে তিনি সিঙ্গাপুরে প্রশিক্ষণ লাভ করেন। আলোকচিত্র সাংবাদিকতার ওপর ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট থেকেও তিনি প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ২০০৪ সালে চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোগ্রাফিতে অংশ নেন।

১৯৮৮ সালে ঢাকায় ও ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপর তাঁর একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর আলোকচিত্র ১৯৮৯ সালে ব্যাংককে এসকাপ প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

বীনু তাঁর কর্মজীবনে দেশি-বিদেশি বহু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিশ্ব-ব্যক্তিত্বের ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, মাওলানা ভাসানী, খালেদা জিয়া, জর্জ বুশ, বাদশাহ ফাহাদ, ইয়াসির আরাফাত, ফ্রাঁসোয়া মিতেরা, সুহার্তো, রাজীব গান্ধী, চন্দ্রশেখর, পিভি নরসীমা রাও, নওয়াজ শরিফ, রানাসিঙ্গে প্রেমাদাসা, মামুন আবদুল গাইয়ুম, পোপ দ্বিতীয় জন পল ও মাদার তেরেসা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.