আপিলে ঝুলছে ২৯ যুদ্ধাপরাধীর বিচার

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২৯ যুদ্ধাপরাধীর বিচার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এর মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ কায়সারের রিভিউ আবেদনও রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২৩৭ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত ২৯ যুদ্ধাপরাধীর বিচার আপিল বিভাগে ঝুলে আছে। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা জামায়াত নেতা এ টি এম আজহার ও জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারের রিভিউ আবেদনও আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পর্যায়ক্রমে আরো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মো. মোবারক হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান মলি্লক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ও খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক খান তাহের, কিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন আহমেদ, মোসলেম প্রধান, হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া ও আবদুর রাজ্জাক, জামালপুরের সামসুল হক ওরফে বদর ভাই ও এস এম ইউসুফ আলী এবং যশোরের সাবেক এমপি ও জামায়াত নেতা সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন, নোয়াখালীর সুধারামের আমীর আলী ও জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজারের উজের আহমেদ ও ইউনুছ আহমেদ, ফুলবাড়িয়ার রিয়াজউদ্দিন ফকিরসহ ২৯ জন।

যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় তিন বছর ঝুলে থাকার পর ২০১৯ সালের শেষের দিকে যুদ্ধাপরাধীদের আপিল শুনানিতে গতির সঞ্চার হয়। ওই সময়ে আপিল শুনানি শেষে জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরই মধ্যে দেশে আঘাত হানে করোনাভাইরাস। বন্ধ হয়ে যায় আদালত। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় যুদ্ধাপরাধীদের আপিল শুনানি।

এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বিচারপতি এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের আপিল শুনানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখনো যুদ্ধাপরাধ মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। আমি মনে করি, শহীদদের আত্মার শান্তির জন্যই যুদ্ধাপরাধীদের আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজন।

তদন্ত ও প্রসিকিউশন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ৩৬টি মামলা বিচারাধীন। মোট আসামির সংখ্যা ২৩৭ জন। ৭৭টি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়েছেন ১৬১ জন। পলাতক আছেন ১৪৪ জন। জামিনে আছেন চারজন। গত ১১ বছরে মারা গেছেন ২২ আসামি।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ, অগি্নসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের আরো ৬৯৭টি অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছে। যার আসামির সংখ্যা তিন হাজার ৫০৩ জন। গত ১১ বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৪২ মামলায় ১০৩ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয় ৭১ জনের। আমৃত্যু সাজা হয় ২২ জনের। অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের দণ্ড হয়। শিশু বয়স বিবেচনায় এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত প্রভাবশালী সাত যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। তারা হলেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী।

এছাড়া জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল ও রিভিউ নিষ্পত্তি হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.