আত্মহত্যার চেষ্টা করা সেই গৃহবধুর সঙ্গে যা করলেন শাকিব

শুটিং দেখতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করা সেই গৃহবধূ এবার দেখা পেয়েছেন তার কাঙ্ক্ষিত নায়ক শাকিব খানের। শুধু দেখাই নয় প্রিয় নায়কের সঙ্গে গল্প করারও সুযোগ পেয়েছেন। গত শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সেই গৃহবধূর পুরো পরিবার এসেছিলেন শাকিব খানের শুটিং দেখতে। আরটিভি নিউজের জামালপুর প্রতিনিধি সুজিত রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় শাকিব খানসহ পুরো শুটিং ইউনিট বেশ কিছু সময় কাটান সেই পরিবারের সঙ্গে। শাকিব খান ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী-সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান। সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের পাগলামো করা থেকে বিরতও থাকতে বলেন।

এমন ঘটনা জানতে পেরে শাকিব খান বলেছিলেন, ‘ঘটনাটা শুনেছি আমি। মন খারাপ হয়েছে খুব। এটা কখনোই কাম্য নয়। কোনো মানুষেরই এমনটা করা উচিত না। জীবন সবার আগে। তারপর আবেগী মনোভাব। ওই দম্পতিকে আমাদের শুটিং সেটে নিয়ে আসতে বলেছি স্থানীয় প্রশাসনকে। কিছুটা সময় তাদের সঙ্গে কাটাতে চাই। এমন পাগলামিতে ভরা ভালোবাসার জন্যই আমি আজকের সুপারস্টার হয়েছি।

উল্লেখ্য, নায়ক শাকিব খানের শুটিং দেখতে নিয়ে না যাওয়ায় স্বামীর ওপর অভিমানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন গৃহবধূ। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরগ্রামে গত সোমবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘গলুই’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলচিত্র সুপারস্টার শাকিব খান জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি সীমানার জামথল ঘাটে অবস্থান করছেন। কিং খানকে একনজর দেখতে প্রতিদিন সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার দর্শক শুটিংকালে ভিড় করে।

সোমবার (১১ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরগ্রামের ইয়াসিনের স্ত্রী শাকিবের শুটিং দেখতে যাওয়ার বায়না ধরেন। কিন্তু স্বামী অসুস্থ থাকায় সেদিন নিয়ে যেতে না পারায় উভয়ের মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর গৃহবধূ সুমাইয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে তার স্বামী দরজা ভেঙে তাকে ঝুলানো অবস্থায় মাটিতে নামান।

ওই গৃহবধূর স্বামী জানান, জামথল ঘাটে শাকিব খানের শুটিং দেখার জন্য আমার স্ত্রী বায়না ধরে। আমি জন্ডিস রোগে আক্রান্ত থাকায় দু-একদিন পর নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু সে তা না মানায় আমাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় সে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.