আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের বড় শত্রু: নানক

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন- আওয়ামী লীগ এমন একটি দল যে দলটি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোন শক্তির কাছে কখনো পরাভূত হয়নি। আমাদের মধ্যে বিভেদ, আমাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় শত্রু। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় বিরোধিতাকারী; এই বিষয়গুলোকে আমাদের ঝেড়ে মুছে ফেলে দিতে হবে।

সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর সূচনা কমিউনিটি সেন্টার ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মোহাম্মদপুর থানার আওতাধীন ২৯ নং ওয়ার্ডের ইউনিট সম্মেলনে তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এই ইউনিট সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ তাদের পূর্বঘোষিত ইউনিট সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হল। যা ধারাবাহিকভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ওয়ার্ডে ইউনিট সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটি দল যে দল যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোন শক্তির কাছে এই দলে পরাভূত কখনো হয়নি। আমাদের মধ্যে বিভেদ, আমাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় শত্রু। আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় বিরোধিতাকারী; এই বিষয়গুলোকে আমাদের ঝেড়ে মুছে ফেলে দিতে হবে।

বিএনপি নেতাদের ব্যাপারে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান দলের এই সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নানক। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, ইদানীংকালে তারা বক্তব্য দিচ্ছে সারা বাংলাদেশ দখল করে ফেলেছিলাম শুধু ঢাকা দখল করতে পারি নাই দেইখা শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করা যায় নাই। মির্জা ফখরুল সাহেব, সারাদেশে কি আন্দোলন করেছিলেন? গাড়ি পুড়িয়ে ছিলেন মানুষ হত্যা করেছেন, বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন, সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছেন, সেটাকে কি আন্দোলন বলে? সেটা হলো সন্ত্রাস। এই সন্ত্রাস করে জনগনের মন জয় করা যায় না। জনগণের মন জয় করতে হয় তাহলে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নির্দেশে এই করোনা মধ্যে যে ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আত্মমানবতার সেবা করেছে, সেই সেবা আপনারা করেন নাই আপনারা করতে যান নাই। আর ঢাকা দখল করবেন? বলেও উল্লেখ করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

মহানগর নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই ইউনিট সম্মেলনের মধ্য দিয়েই আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। ওদের (বিএনপি) বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। ওরা যেন আর এই বাংলাদেশে বুক উঁচিয়ে কথা বলতে না পারে।

বিএনপির তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করে তার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, লন্ডনে বসে লাদেন হয়েছেন? চারদিন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন? লন্ডনে প্রসাদসম বাড়িতে বসে বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজি করে নিয়ে প্রমোদসম-বিলাসী জীবন-যাপন করবেন! আর এই বাংলাদেশকে রণক্ষেত্রে পরিণত করবেন? সেই রণক্ষেত্র পরিণত করতে দেয়া হবে না।

মোহাম্মদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন একথা নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই এলাকায় সংগঠনকে শক্তিশালী সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, এই মোহাম্মদপুরে এমন সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করতে হবে, আমরা যেন যেকোনো মুহূর্তে যেন ২০ হাজার মানুষ গিয়ে শেখ হাসিনার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারি। সেই ধরনের সংগঠন আমাদের প্রস্তুত করতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ইউনিট সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একটি দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই ইউনিট সম্মেলন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।আমরা কারা? আপনারা কারা? আমরা সবাই শেখ হাসিনার সৈনিক। এখানে কোনো পছন্দ আর অপছন্দের বিষয় নেই। কেউ আমাদেরটা খায় না, পরে না। আমরা কাউকে বেতন দেই না। আমাদের আদর্শবান কর্মী গড়ে তুলতে হবে। যারা আদর্শবান যারা দীর্ঘদিন ধরে এই দলটি করতে করতে দলের জন্য অনেক কিছু বিসর্জন দিয়েছেন তাদেরকে দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। তাদেরকে দলে নিয়ে আসলে দল শক্তিশালী হবে।

তিনি দলের সংগঠনের নেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যারা বিএনপি থেকে যুবদল থেকে যারা আসছেন আর যারা এদের দলে ঢুকান তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার জন্য ইউনিট সম্মেলন মধ্যে দিয়ে যে সম্মেলন শুরু হল এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এবং ঐতিহাসিক ঘটনা। আমি গর্বিত। আমি সম্মানিত আপনার আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন আমি। আমি এই ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা এবং ভোটার। এই মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বুকফাটা চাপা কান্না রয়েছে। সেই চাপা কান্না আপনারা নেতৃত্ব আছেন, তাদেরকে শুনতে হবে বুঝতে হবে জানতে হবে। সেই বুকফাটা কান্না হল, যোগ্য মানুষকে যোগ্য জায়গায় সম্মানিত করা হয় নাই ইতোপূর্বে। আমি বিশ্বাস করি এবং দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল, বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে আর কেউ নিগৃহীত ও বঞ্চিত হবেন না।

জাতীয় সংগীত ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরবর্তীতে দ্বিতীয় অধিবেশনের সাবজেক্ট কমিটির সভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রস্তাব ও সমর্থনে সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটে ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্গত ২৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি সলিম উল্লাহ সলুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিয়াচান। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করেন ২৯ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.