অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ

রান তাড়ায় শুরুর ধাক্কা সামলে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে হারানোর পর মিচেল মার্শ ও ম্যাকডারমোর্টের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়েছে সফরকারীরা। এই দুজনের ব্যাটে চড়েই সিরিজে প্রথম জয়ের দিকে হাঁটছিল ম্যাথু ওয়েডের দল। কিন্তু সাকিব আল হাসান ম্যাকডারমোর্টকে ফিরিয়ে শক্ত জুটি ভাঙলেন। ৪১ বলে ৩৫ রান করেন ম্যাকডারমোর্ট। ৬৩ রানে ভেঙেছে দ্বিতীয় জুটি। এরপর আরও দুটি উইকেট হারালেও জয়ের সুবাস পাচ্ছে অতিথি দলটি।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ চার উইকেটে ১০৬ রান। জয়ের জন্য ১০ বলে ২২ রান দরকার অসিদের।

গত দুই ম্যাচে ওপেনিংয়ে সাফল্য না আসায় আজ তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে পরিবর্তন আনে অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার জশ ফিলিপির বদলে সুযোগ পান ম্যাকডারমোর্ট। আর অলেক্স ক্যারির বদলে নামেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। অধিনায়ক ওয়েডকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন নাথান এলিস। শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহ, মুস্তাফিজ ও মেহেদীকে আউট করে নিজের অভিষেক ম্যাচ হ্যাটট্রিকে রাঙালেন এলিস।

এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো এদিনও ব্যর্থ হন নাঈম শেখ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জশ হেইজেলউডের মিডল স্টাম্পে করা বল হালকা সুইং করে বেরিয়ে যায়। ওই ডেলিভারিটিই খেলতে যান নাঈম। তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় কিপার ম্যাথু ওয়েডের গ্লাভসে। দুই বলে এক রান করেন তরুণ এই ওপেনার।

নাঈমের পর তৃতীয় ওভারে হতাশ করেন সৌম্য সরকার। চলতি সিরিজে চরম ব্যর্থ সৌম্য আউট হন অ্যাডাম জাম্পার বলে। লেগ স্পিনার জ্যাম্পার প্রথম বলটিই সুইপ করার চেষ্টা করেন সৌম্য। বল আঘাত করে সৌম্যের প্যাডে। এলবির আবেদন তোলে অস্ট্রেলিয়ানররা। আম্পায়ারও তাঁদের আবেদনে সাড়া দিতে দেরি করেননি।

অবশ্য সৌম্য রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁচতে পারেননি। ১১ বলে ২ রান করে ফিরে যান তিনি। ধারাবাহিক ব্যর্থ সৌম্য আগের ২ ম্যাচে করেন ২ ও ০। দুই ওপেনারকে হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে বেশি রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। ছয় ওভারে ২৮ রান করে স্বাগতিকরা।

৩ রানের মাথায় দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়ানডাউনে নেমে সেই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু আশা জাগিয়ে পারলেন না টিকে থাকতে। জাম্পার বলেই কাটা পড়েন তিনি। নবম ওভারে জাম্পার বল মোকাবিলা করতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। সেখানে থাকা অ্যাশটন অ্যাগার ক্যাচ নিতে মিস করলেন না। ১৭ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন সাকিব।

সাকিবের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আফিফ। কিন্তু রান আউট হয়ে বিদায় নিতে হয় তাঁকে। ১৩ বলে ১৯ রান করে ফেরেন আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক।

আফিফের বিদায়ের পর দ্রুত দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। উইকেটে এসেই ৩ রান করে বিদায় নেন শামীম হোসেন। আর ৫ বলে ১১ রান করেন নুরুল হাসান সোহানও রান আউট হন।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে টিকে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। টেলএন্ডারদের নিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১৫০ রানের পুঁজি এনে দেন অধিনায়ক। ৫২ বলে হাফসেঞ্চুরি করা মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত আউট হন। তাঁকে আউট করা এলিস শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক তুলে নেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.