অধ্যাপক আবদুল হামিদ আর নেই

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দর্শন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুল হামিদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটে রাজশাহী নগরীর বিনোদপুরে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি এক পুত্র এবং এক কন্যা রেখে গেছেন। বাদ যোহর রাবির কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে মরহুমের জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় ভিসি দর্শন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণায় মরহুমের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ এক উঁচু মানের গবেষক, লেখক, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদকে হারালো।

অধ্যাপক আবদুল হামিদ ১৯৪৩ সালে পটুয়াখালি জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার লেবুবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে যথাক্রমে বিএ (প্রথম শ্রেণী) ও এমএ ডিগ্রি (প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান) এবং ১৯৮২ সালে ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগ দেন ও ১৯৮৭ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে তিনি বিভাগীয় সভাপতি (১৯৮৫-১৯৮৮), শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাপাখানার প্রশাসক ও রাকসুর ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অধ্যাপক আবদুল হামিদ ১০টি পিএইচডি ও ৪টি এমফিল গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং প্রায় অর্ধশতাধিক এমফিল/পিএইচডি থিসিস পরীক্ষণ করেছেন। এছাড়া দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালে তার চল্লিশের অধিক গবেষণা প্রবন্ধ ও দর্শনশাস্ত্রের উপর ছয়টি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.