“শেখ মুজিব কে চিনে নাও নতুন প্রজন্ম”

“আজ আমি এক নেতার কথা বলতে এসেছি”

৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ইন্দিরা, গর্বাচেভ, নিকসনের মত বিশ্বনেতারা সবাই হাজির আছেন। মানচিত্রে নতুন জায়গা করে নেয়া বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে ভাষণ দিতে গেলেন। তাকে জানানো হলো,বাংলায় ভাষণ দেয়া যাবেনা। তিনি সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে বজ্র কন্ঠে হুংকার ছাড়লেন, ‘ছোট দেশের বড় নেতা, সাড়ে সাত মিলিয়ন জনসংখ্যার রাষ্ট্রভাষা যদি আন্তর্জাতিক ভাষা হতে পারে, তবে আমার ৭৫ মিলিয়ন মানুষের বাংলা ভাষা কেন আন্তর্জাতিক ভাষা হবে না? আমি শেখ মুজিবর রহমান আজ থেকে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষন দেব।’
বাংলাদেশ নামক বীরের দেশের বীর নেতার পাহাড় সমান ব্যাক্তিত্ব দেখে সারা বিশ্বের নেতারা ভাষণ শেষে বঙ্গবন্ধুকে দিলো ‘ষ্ট্যান্ডিং ওভেশন।’
অদম্য সাহসে সেদিন শেখ মুজিব সমগ্র পৃথিবীকে মেসেজটা দিয়ে দিলেন। বাংলাদেশ ছোট দেশ, কিন্তু বাংলাদেশীরা বীরের জাত।

“আজ আমি এক পিতার কথা বলতে এসেছি”

স্বাধীনতার পরের ঘটনা। হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতন ধর্ষণের পর সেই নারীরা ঘরে ফিরে পেলো মানসিক নির্যাতন। বাপ তার মেয়েকে ঘরে নিতে অস্বীকার করল, স্বামী বউকে তালাক দিল। সমাজ তাদের বয়কট করল। অপমানে লজ্জায় গাছের ডালে ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করল বাংলার বীরাঙ্গনারা। কার জন্য ইজ্জত গেল, কার জন্য নির্যাতন সহ্য করলাম?
সে খবর গেল শেখ মুজিবের কানে। বুক চাপড়ে কেঁদে কেঁদে মুজিব বললেন, কেউ যদি বীরঙ্গনাদের পিতার নাম জিজ্ঞেস করে তবে বলে দিও তাদের পিতা “শেখ মুজিবর রহমান” আর তাদের ঠিকানাস্থানে লিখে দিও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর।

“শেখ মুজিব কে চিনে নাও নতুন প্রজন্ম”

সব দেশের বীর আছে কিন্তু ত্রিশ লাখ শহীদ নেই।
সব দেশের স্বাধীনতা দিবস আছে কিন্তু বিজয় দিবস নেই। আমাদের লেভেলটা অনেক উপরে।
কেননা আমাদের একজন মুজিব ছিল, যে মুজিবের তর্জনির ইশারায় একটা জাতি যুদ্ধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সব সংগ্রামের নেতা ছিলেন শেখ মুজিব। তার ফলে পৃথিবীর মানচিত্রে একটা দেশের জন্ম হয়, নাম তার “বাংলাদেশ”।
লেখক- গোলাম মোস্তফা ফিরোজ।

আরও পড়ুন
Loading...