মেসির জন্মের আগে অভিষেক, এখনও পেশাদার ফুটবলার

মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্রাজিল চলে গিয়েছিলেন। সাও পাওলোর দল অ্যাতলেটিকো জুভেন্টাস এসপির জুনিয়র দলে নাম লেখান। ১৯৮২ সাল থেকে চার বছর দলটিতে ফুটবল পাঠ নেন। সুযোগ হয় ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান দল সান্তোসের হয়ে খেলার। ১৯৮৬ সাল থেকে পেশাদার লিগে অভিষেক। চার বছর বেশ কয়েকটি ব্রাজিলিয়ান দলের জার্সিতে মাঠ মাতান। ১৯৯০ সালে ফিরে আসেন জন্মভূমি জাপানে। সুযোগ হয় জাতীয় দলের হয়ে খেলার। জাপান লিগে অভিষেক হয় ভার্ডি কাওসাকির হয়ে। চার বছরের মাথায় ইতালিয়ান দল জেনোয়ায় নাম লেখান। লোনে সিরি আ’ মাতিয়ে ফিরে আসেন কাওয়াসাকিতে। ১৯৯৯ সালে ক্রোয়েট দল ডিয়ামো জাগরেবে যোগ দেন। ফিরে আসেন জাপানে। স্থানীয় দল কোয়োটো পার্পেল সাঙ্গা ও ভিসাল কবের হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত খেলেন। বাকি পর্বটা ইয়োকোহামা এফসির সঙ্গে। মাঝে খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান দল সিডনি এফসিতে। নতুন করে শিরোনামে আসার কারণ ৫৩ বছর বয়সেও পেশাদার লিগে নতুন চুক্তি করেছেন কাজুইয়োশি মিউরা নামক এই ব্যক্তি।

১৯৫৭ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি সিজুকা শহরে জন্ম নেন তিনি। প্রথমবার যখন সান্তোসের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন তখন ছয়বারের ব্যালন ডি’ অর জয়ী লিওনেল মেসির জন্মও হয়নি। ৪২ বছর বয়সে ইতালিয়ান কিংবদন্তি জিয়ানলুইজি বুফোন খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ৩৯ বছর বয়সে একের পর এক গোল করে নজর কাড়ছেন। ৩৫ বছর বয়সেও দমানো যাচ্ছে না পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। অন্যদিকে ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিও মেসির কারিশমা দেখে অবাক হতে হয় সবাইকে। বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন ৩০/৩২ বছর বয়স হলেই অবসরের দিন গুনতে থাকে ফুটবলাররা, তখন ৫৪ ছুঁই ছুঁই মিউরা সবার জন্য আইকন হতেই পারেন ‘কিং কাজু’ খ্যাত এই তারকা।

পাঁচটি দেশের ১৩টি দলের হয়ে খেলো কাজুইয়োশি মিউরা বাংলাদেশের বিপক্ষেও খেলেছেন। ১৯৯০ এশিয়ান গেমসে জাপানের হয়ে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন। অভিষেক ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিলেন শেখ মোহাম্মদ আসলাম-কায়সার হামিদদের।

ওই আসরে জাপান কোয়ার্টার ফাইনালে ছিটকে গেলেও পরের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঠিকই। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ১৩ ম্যাচে ১৩ গোল করে আলোচনায় চলে আসেন মিউরা। যদিও মূল পর্বে পৌঁছতে ব্যর্থ হয় জাপানিরা। ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ এশিয়ান কাপেও অংশ নেন তিনি।

১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে যেতেই হবে। বাছাই পর্বে ১৪ গোল তুলে ছিলেন তিনি। দল মূল পর্বে জায়গা পেলেও স্কোয়াডে ডাক পাননি মিউরা। দমে যাননি তিনি। দুই বছর পর আবারও সুযোগ আসে দেশের হয়ে খেলার। ২০০০ সালে যখন অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তখন দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনিই। ৮৯ ম্যাচে ৫৫ গোল করে থামেন কিংবদন্তি মিউরা।

ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে নতুন মৌসুম। তার আগে আবারও নতুন চুক্তি করলেন ইয়োকোহামা এফসির সঙ্গে। জে লিগ শুরু হলে ক্যারিয়ারের ৩৬তম মৌসুমে খেলার রেকর্ড গড়বেন তিনি। ২০১৭ সালে সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসেবে পেশাদার লিগে গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।

জাপান লিগে বার্সেলোনা কিংবদন্তি ইনিয়েস্তার সঙ্গে কাজুইয়োশি মিউরা

নতুন চুক্তির পর কিং কাজু জাপন টুডেকে মিউরা বলেন, ‘আগের মৌসুমে আমি খেলাটা উপভোগ করছিলাম। ঠিক তখনই বিশ্বে আঘাত হানে করোনা।’ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যত বেশি পারি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করবো। আশা করি নতুন মৌসুমে দলের জন্য সেরাটা দিয়ে শিরোপা তুলে দিতে পারবো।’

আরও পড়ুন
Loading...