তিন আমলে ঋণমুক্ত হবেন

মানুষের সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সাহায্যে পূর্ণ হয়ে ওঠে। একে অন্যের পাশে সুখ-দুঃখে বন্ধু হয়ে দাঁড়ায়। কখনো যদি কেউ টাকা-পয়সা বা অন্য কিছুতে সমস্যা পড়ে, তাহলে তাকে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। আবার সেই ঋণ দ্রুত পরিশোধ করা জরুরি। ঋণগ্রস্ত নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের মতো হাজারো ভালো কাজ করে থাকলেও মৃত্যুর পর ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার আত্মা জান্নাতের দিকে ঝুলে থাকবে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অন্য সব দিকে ভালো মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর ঋণের কারণে তার আত্মা জান্নাতের পথে লটকে থাকবে। যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে কেউ সেই ঋণ পরিশোধ করে দেয়।’ ইবনে মাজাহ।

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে তার জীবন কোরবানি করে দিয়ে শহীদ হলো তারও ঋণ মাফ করা হবে না। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঋণ ছাড়া শহীদের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ মুসলিম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন ঋণখেলাপির জানাজা পড়তেন না। ঋণ পরিশোধে আমাদের সবারই আন্তরিক চেষ্টা থাকা উচিত। যেভাবে আমরা ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি, আসুন জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে-

ঋণ পরিশোধের নিয়ত করা
অনেকে পরিশোধ না করার ইচ্ছা নিয়েই ঋণ করেন। পাওনাদারকে ঠকানোই যাদের ইচ্ছা। ‘ভবিষ্যতে একান্তই দিতে হলে দিয়ে দেব, আর না দিয়ে পারলে তো বাঁচা গেল,’ এই তাদের মনোবৃত্তি। এ ধরনের খেলাপির ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে হাদিসে।

যখন কেউ একান্ত প্রয়োজনে ঋণ করে এবং পরিশোধ করার দৃঢ় সংকল্প রাখে আল্লাহ তাকে ঋণ পরিশোধের তৌফিক দান করবেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পরিশোধ করার নিয়তে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে আল্লাহ তাকে পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে মানুষের সম্পদ ধ্বংসের জন্য গ্রহণ করে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন।’ বুখারি।

ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা
ঋণ পরিশোধের জন্য কেবল নিয়ত করে বসে থাকলেই হবে না বরং চেষ্টা করতে হবে। ঋণ পরিশোধ আমার বড় একটি প্রয়োজন। এটি মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনের খরচগুলো কমানো। অপ্রয়োজনের খরচগুলো একদম বাদ দেয়ার মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণ করে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ জমাতে হবে। অল্প অল্প করে ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে হবে।

দোয়া করা
ঋণ পরিশোধের প্রাণান্ত চেষ্টার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা ইসলামের শিক্ষা। হজরত আবু ওয়ায়েল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এক ক্রীতদাস এসে বলল, আমাকে সাহায্য করুন, আমি চুক্তির টাকা আদায় করতে পারছি না।

তখন হজরত আলী (রা.) তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি শব্দ শিখিয়ে দেব, যা আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছেন? যদি তোমার ওপর সায়ির পাহাড় পরিমাণও ঋণ থাকে তবু আল্লাহ তায়ালা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেবেন। এ ছাড়া হাদিসে আরো দোয়া রয়েছে সেগুলো বেশি বেশি পড়লে এবং ঋণ পরিশোধের নিয়ত করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলে আল্লাহ ঋণমুক্ত করে দেবেন। ইনশাআল্লাহ!

আরও পড়ুন
Loading...