চুলে রোগ রহস্য

মানুষের সৌন্দর্য ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুল নিয়ে। চুলের সমস্যা দূর করতে নানা উপায় রয়েছে। এসব উপায়ে সমস্যা দূরও হয়। কিন্তু আপনি কী জানেন, চুলের সমস্যা কেবল বহিরাগত কারণ নয়, শরীরের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয় চুলে।

সুতরাং, সমস্যা যখন ভেতরে, তখন ভেতরের রোগ দূর করতে হবে। তবে তার আগে চলুন জেনে নিই, চুলের পাঁচটি বিষয় যা তুলে ধরবে আপনার স্বাস্থ্য সমস্যা:

বেশি তৈলাক্ত
সম্ভাব্য কারণ: চাপ, রোদে পোড়া এবং বেশি দুগ্ধজাত দ্রব্য গ্রহণ

জিম থেকে বেরিয়ে ঘেমে যাওয়া শরীরে মাথার চুল দেখায় তেলচিটে- সেটি অন্য জিনিস। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় আপনার চুল যদি অমন দেখায়, তবে বুঝতে হবে আপনি চাপে আছেন। সেক্ষেত্রে চাপ কমাতে হবে। কেননা, চাপে থাকলে শরীরের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসন নামের হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে মাথার খুলিতে তেল উৎপাদন বাড়ে। ফলে চুল হয়ে ওঠে তৈলাক্ত।

রোদেপোড়া অবস্থাও চুলকে তৈলাক্ত করে। কারণ রোদ চুলের আর্দ্রতা দূর করে। এতে সেবাম নামের উপাদানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চুল তৈলাক্ত হয়। এর পেছনে আরো একটি কারণ হলো দুগ্ধজাত দ্রব্য বেশি গ্রহণ।

দুধ বা দুধ থেকে তৈরি খাবারও মাথার খুলিতে সেবাম উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এ সময় হরমোন অ্যান্ড্রোজেন নামের উপাদান ভেঙে দেওয়ায় চুলে একটি ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।

শুকনো ও নিষ্প্রাণ চুল
সম্ভাব্য কারণ: ভিটামিন ডি-এর অভাব

ভিটামিন ডি-এর অভাবে চুল শুকনো হয়ে ওঠে। এতে চুল ভেঙেও যেতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন ডি-এর অভাবও চুল পড়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

মেডিক্যাল টুডে মতে, অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা রোগে আক্রান্তদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব থাকে। আর ২০১২ সালে জাপানি এক গবেষণায় দেখানো হয়, ভিটামিন ডি চুলের বৃদ্ধির জন্য নতুন কোষ উৎপাদনে সক্ষম যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

সূর্যের আলো ত্বকে ভিটামিন ডি উৎপাদনে উৎসাহিত করে। তবে দিনে ২০ মিনিটের বেশি রোদে থাকা চুল ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। রোদ থেকে পাওয়া সুবিধাগুলো অ্যাভাকাডো, ডিম, স্যামন, বাদামসহ স্বাস্থ্যকর চর্বি থেকে পাওয়া যেতে পারে।

অকালে চুল পাকা
সম্ভাব্য কারণ: থাইরয়েড ব্যাধি এবং ভিটামিন বি ১২-এর অভাব

শরীরের প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে যে থাইরয়েড গ্রন্থি তা চুলের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় বলা হয়, থাইরয়েড গ্রন্থি চুলের ফলিকল বদলে ফেলতে পারে যা চুলের রং নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ফলে চুল সাদা হয়ে যায়।

ভিটামিন বি ১২-এর অভাবও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য দায়ী। এই ভিটামিন চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপাদন করে যা বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে। এর অভাবে অকালে চুল পেকে যেতে পারে।

ডিম, মাংস, হাঁস-মুরগীর খামার এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের মধ্যে পাওয়া যায় এই ভিটামিন।

শুকনো ও ভেঙে যাওয়া
সম্ভাব্য কারণ: কম প্রোটিন গ্রহণ

চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও শক্ত রাখে যে মূল প্রোটিন তা হলো কেরাটিন। সুতরাং, আপনার চুল যদি শুকনো থাকে এবং ভেঙে যায় তবে বুঝতে হবে শরীরে কেরাটিনের অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এই উপাদান সমৃদ্ধ খাবারগুলো খেতে হবে।

মুরগি, মাছ, ডিম, বাদাম, বীজ ইত্যাদি কেরাটিন সমৃদ্ধ খাবার।

চুল পরা
সম্ভাব্য কারণ: চাপ, অসুস্থতা, হরমোন ভারসাম্যহীনতা বা পুষ্টিগত সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি দেখেন দুই-তিন মাসের মধ্যেই চুল পড়ার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেছে তবে বুঝতে হবে স্বল্পমেয়াদি অসুস্থতা বা তীব্র চাপ আপনাকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে।

ভালো খবর হলো, যদি এমন হয় তবে চিন্তার কিছু নেই। আপনার চুল এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।

তবে, যদি মনে করেন এর সঙ্গে চাপ বা অসুস্থতা সম্পর্কিত নয়, তবে তবে পুষ্টিগত বা হরমোন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তা হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

সূত্র : গ্লামার ম্যাগাজিন

print

Facebook Comments

৬৭ বার পঠিত