একুশে পদকপ্রাপ্ত নিখিল সেন আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার: একুশে পদকপ্রাপ্ত বরিশালের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিখিল সেন (৮৮) আর নেই। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিখিল সেন দীর্ঘদিন ধরে বয়স জনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বরিশাল সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সর্বত্র পদচারণা ছিলো একুশে পদকপ্রাপ্ত নিখিল সেনের। তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সদস্য, নগরীর অমৃত মহাবিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। ৮৩ সালে বরিশাল নাটক পরিচালিত বাংলাদেশের প্রথম আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের পতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন।
তিনি একাধারে অভিনয় শিল্পী, নাট্যকার, সাংবাদিক, আবৃত্তি শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন। আবৃত্তিতে অবদান রাখার জন্য ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন তিনি। নাটকে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এর আগে ১৯৯৬ সালে শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সম্মাননা এবং ২০০৫ সালে শহীদ মুনীর চৌধুরী পুরস্কার পান তিনি।

নিখিল সেন ১৯৩১ সালের ১৬ এপ্রিল বরিশালের কলস গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিরাজের স্বপ্ন নাটকে সিরাজ চরিত্রে অভিনয় করার মধ্য দিয়ে নাট্যজীবন শুরু করেন নিখিল সেন। এরপর তিনি অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন। নিজেই দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ২৮টি নাটকে। নিখিল সেন কমিউনিস্ট আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭১ সালে নিখিল সেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

নগরীর হাসপাতাল রোড ঝাউতলা দ্বিতীয় গলির বাসিন্দা প্রবীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিখিল সেনের মৃত্যুর খবরে তার বাস ভবনে ভিড় করেন স্বজন সহ সহকর্মীরা।

প্রয়াত নিখিল সেনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের কথা উল্লেখ করে তার শূন্যস্থান পূরণের মতো নয় বলে মন্তব্য করেন তারা। তারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

উদীচী বশিালের অন্যতম সংগঠক সাইফুর রহমান মিরন জানান, নিকিল সেনের মরদেহ হাসপাতাল রোডের অমৃত মহাবিদ্যালয় চত্বরে রাখা হয়েছে। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অশ্বিনী কুমার হলের সামনে রাখা হবে। ১১টায় নেওয়া হবে প্রেসক্লাব চত্বরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। সকাল সাড়ে ১১টায় তার মরদেহ রাখা হবে উদীচী এবং বরিশাল নাটক কার্যালয় চত্বরে। সেখান থেকে মহাশ্মানে নিয়ে যাওয়া হবে তার মরদেহ। পরে সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বলে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

print

Facebook Comments

৭১ বার পঠিত